শুক্রবার

১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি: তেলের সংকট, চড়া দামে মুরগি-সবজি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৫৪

শেয়ার

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি: তেলের সংকট, চড়া দামে মুরগি-সবজি
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, সোনালি মুরগির উচ্চমূল্য এবং অধিকাংশ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল কিছুটা পাওয়া গেলেও ছোট বোতল (অর্ধ, এক ও দুই লিটার) প্রায় অনুপস্থিত। অনেক দোকানে খোলা সয়াবিন তেল মিলছে, তবে তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে সরকার নির্ধারিত এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম ১৭৬ টাকা এবং পাম তেলের ১৬৪ টাকা হলেও বাজারে খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা এবং পাম তেল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে সরবরাহ কম থাকলেও গত কয়েক দিনে অনেক কোম্পানি অর্ডার নেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তেল নিতে হলে অন্য পণ্যও কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রামপুরা বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, “কোম্পানি তেলের অর্ডার নিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে পাইকারি বাজার থেকে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। তেল না থাকলে অন্যান্য পণ্যও বিক্রি কমে যায়।”

অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সোনালি মুরগির দাম এখনও বেশি। বর্তমানে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ৪৫০ টাকা ছাড়িয়েছিল। খামারিরা জানান, বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে।

ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে ১৮৫ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগে ২২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ১১০ টাকার মধ্যে ছিল। কিছু এলাকায় খুচরা পর্যায়ে ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে সবজির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির। অধিকাংশ সবজি এখন ৮০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলুর দাম তুলনামূলক কম, কেজি ২৫ টাকা। পেঁপে ও গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমানে পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, সিম ও সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, বরবটি ও করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাকরোল ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের বাজারে। কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।



banner close
banner close