চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা এলাকায় স্থাপিত দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুরি হওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্যরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন গন্ডামারা এলাকায় এস আলম গ্রুপ ও চীনের সেপকো থ্রি’র যৌথ মালিকানাধীন বাঁশখালী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করে বাইরে বিক্রি করে আসছিল।
গত বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের দেওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানার একটি দল চাম্বল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম আলী চৌধুরী জামে মসজিদের সামনে একটি পুকুরপাড়ে অভিযান চালায়। এ সময় চুরি হওয়া ‘এক্সএলপিই’ তার উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে চাম্বল ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিল্লা মিয়ার ছেলে আজগর এবং আবুল কালাম (অরফে কালু) এর ছেলে মনি আলমের বাড়ি থেকে ১১ হাজার কেভি এক্সএলপিই তারসহ প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করেছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর মশিউর রহমান জানান, গত ১০ জানুয়ারি গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কেন্দ্রটির দক্ষিণ পাশের বাউন্ডারি সংলগ্ন ২ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে কনটেইনার রুমের পাশ থেকে ১১ হাজার কেভি এক্সএলপিই তারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরবর্তীতে মামলা দায়ের করা হয়।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাম্বল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগ করা হয়েছে। এতে এস আলম গ্রুপের অংশীদারিত্ব ৭০ শতাংশ এবং বাকি ৩০ শতাংশের মালিকানা রয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান সেপকো থ্রি ও এইচটিজির।
আরও পড়ুন:








