শুক্রবার

১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২৬ চৈত্র, ১৪৩২

এক বিয়েতে দুই কাবিননামা: নীলফামারীতে কাজী কারাগারে

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:২৬

শেয়ার

এক বিয়েতে দুই কাবিননামা: নীলফামারীতে কাজী কারাগারে
ছবি সংগৃহীত

এক বিয়ের বিপরীতে ভিন্নধর্মী দুটি কাবিননামা প্রদানের অভিযোগে নীলফামারী সদর উপজেলার ১০ নম্বর কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর খামাতপাড়া গ্রামের ছাইদুল ইসলামের মেয়ে মেরি আক্তারের বিয়ে হয়। ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়েটি সম্পন্ন হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী রমজান আলী তার স্ত্রী মেরি আক্তারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় মেরি আক্তার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এ ঘটনায় তিনি কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে উভয় পক্ষ আদালতে কাবিননামা দাখিল করলে একই বিয়ের জন্য দুটি ভিন্ন কাবিননামা জমা পড়ায় আদালতের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল মজিদের দেওয়া কাবিননামাগুলোতে অসঙ্গতি ও ত্রুটি রয়েছে। জালিয়াতির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে তাৎক্ষণিক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান শাসন বলেন, একই বিয়ের বিপরীতে ভিন্ন কাবিননামা প্রদান করে কাজী আইন লঙ্ঘন করেছেন। আদালতে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা কাজী সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, কুন্দুপুকুর ইউনিয়নে কাজী নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। এর মধ্যেই আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে অসংখ্য ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে, যা তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

আইনজীবী আব্দুস ছালাম জানান, অভিযুক্ত কাজীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তিনি হাজিরা দেন না। তার কর্মকাণ্ডের কারণে পারিবারিক বিরোধ ও মামলার সংখ্যা বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



banner close
banner close