বৃহস্পতিবার

৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২৬ চৈত্র, ১৪৩২

নীলফামারীতে দেড় কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়ম, ২৪ ঘণ্টায় উঠে যাচ্ছে কার্পেট

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:২৪

আপডেট: ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:২৫

শেয়ার

নীলফামারীতে দেড় কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়ম, ২৪ ঘণ্টায় উঠে যাচ্ছে কার্পেট
ছবি সংগৃহীত

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা সেচ প্রকল্পের অন্তর্গত একটি সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকৃত সড়কটির কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হাত দিয়ে উঠে যাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (৮ এপ্রিল) স্থানীয় বাসিন্দারা এসব তথ্য জানান।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই হাজার ২০০ মিটার সড়ক সংস্কারে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক দিন আগে কাজটি সম্পন্ন করে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে ধুলোবালির ওপরেই সরাসরি কার্পেটিং করা হয়েছে। আগের রাস্তার অবস্থার কোনো উন্নয়ন না করে তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে রাস্তার কিছু অংশ ইতিমধ্যে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। এছাড়া সড়কের দুই পাশে ইটের রেজিং না থাকায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাস্তা পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই ও রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই তারা দেখেন কার্পেটিংয়ের ওপর দিয়ে হাঁটলেও পায়ের তলায় আলগা মালামাল উঠে আসছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, এভাবে দেড় কোটি টাকা সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়েছে। নালার ধারে বসবাসকারীরা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

প্রকল্পটির কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামাল হোসেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে কেউ ফোনকল বা বার্তার উত্তর দেননি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা যাচাইয়ের জন্য ১২ মাস সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারকেই তা মেরামত করতে হবে এবং পরবর্তীতে তার সিকিউরিটি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, এই ব্যবস্থার কারণে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়কের পাশে বসবাসকারী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কখনো এত নিম্নমানের কাজ দেখেননি। তিনি আশঙ্কা করেন, বর্ষা শুরু হলেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যাবে এবং এলাকার মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় দেড় কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কার্পেট উঠে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



banner close
banner close