ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবা নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
প্রতিবেদকের জানা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ফরিদপুর পৌরসভার বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী বিধবা। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি অন্যের বাসায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোনো সহায়তা না পাওয়ায় সম্প্রতি প্রতিবেশী সুজন শেখ তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতার কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী রিকশায় সুজন শেখের সঙ্গে বের হন। পরে শহরের গোয়ালচামট এলাকার পুরাতন বাস টার্মিনালের কাছে নামিয়ে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে প্রবেশ করিয়ে দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান এবং পরে স্বজনদের সহায়তায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি হন। চারদিন চিকিৎসা শেষে ৬ এপ্রিল বাড়ি ফেরেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার মেডিকেল রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের আলামত রয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, সরকারি সাহায্যের আশায় অভিযুক্তের কথায় বিশ্বাস করে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। তিনি ন্যায্য বিচার চান।
অভিযুক্ত সুজন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি জানান, ওই নারী প্রায়ই তার বাড়িতে আসতেন এবং ঘটনার দিনও সেখানে এসেছিলেন। তবে তার বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী সুনির্দিষ্টভাবে হোটেলের অবস্থান চিহ্নিত করতে না পারায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








