বুধবার

৮ এপ্রিল, ২০২৬ ২৫ চৈত্র, ১৪৩২

অপহরণের পর মোবাইল ডেটা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল, মূলহোতা জিতুসহ চক্র সক্রিয়

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৮

শেয়ার

অপহরণের পর মোবাইল ডেটা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল, মূলহোতা জিতুসহ চক্র সক্রিয়
ছবি সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণের পর তাঁর মোবাইল ফোন থেকে সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র—এমন অভিযোগ উঠেছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, অপহরণের সময় সোহাগের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। পরে ওই ফোনের ব্যক্তিগত তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট এবং যোগাযোগের ডেটা সংগ্রহ করে পরিকল্পিতভাবে ব্ল্যাকমেইল শুরু করা হয়।

এ ঘটনায় আল আমিন ওরফে জিতুকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ড্রাইভার কবির হালদার (৩৯), লতিফ সিদ্দিকী রতন (৩৩), সাব্বির আহমেদ (৩০), ইব্রাহিম খলিল (৩১) ও ইমরান হোসেন মোহন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও মূলহোতা জিতুসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, অপহরণের সময় নেওয়া মোবাইল থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় সাংবাদিক, ক্রাইম রিপোর্টার বা অনলাইন মিডিয়াকর্মী পরিচয়ে যোগাযোগ করে টাকা দাবি করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট অঙ্ক পরিশোধ না করলে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দেশি-বিদেশি—বিশেষ করে মালয়েশিয়া ভিত্তিক—বিভিন্ন নম্বর ব্যবহার করে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। গত প্রায় দুই বছর ধরে একইভাবে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় সোহাগ ইতোমধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও জেলা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর, বার্তা ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুন নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে সোহাগকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তানিয়া আহম্মেদ ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের কয়েকজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জিতুকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দীর্ঘদিনের ব্ল্যাকমেইল ও হুমকির কারণে সোহাগ ও তাঁর পরিবার চরম মানসিক চাপে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ৪ থেকে ৫টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির নেটওয়ার্ক শনাক্তের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



banner close
banner close