ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহুল আলোচিত পর্দা কেলেঙ্কারি মামলায় ১২ আসামির মধ্যে ৬ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত এবং বাকি ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার, ৬ এপ্রিল ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শরিফউদ্দিন চার্জ গঠনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, অব্যাহতি পাওয়া ছয়জন হলেন সহযোগী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সাবেক অধ্যাপক শেখ আব্দুল ফাত্তাহ, মো. আলমগীর ফকির, আব্দুস সাত্তার, ওমর ফারুক এবং প্রকৌশলী মিয়া মোর্তজা হোসাইন। অপরদিকে মামলার বাকি ছয় আসামির মধ্যে সাবেক অধ্যাপক বরুণ কান্তি বিশ্বাস ও ঠিকাদার মুনশী কাফরুল হুসাইন পলাতক রয়েছেন। অন্য চারজন আব্দুল্লা আল মামুন, মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন, ডা. এনামুল হক এবং মো. আলমগীর কবির বর্তমানে জামিনে আছেন।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০১৫ সালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট চালুর জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনিক ট্রেডার্স ও মেসার্স আলী ট্রেডার্স। তবে অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি তদন্ত শুরু করে এবং ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট ১২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দুদকের পক্ষে মামলার অগ্রগতি বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর কুব্বাত হোসেন জানান, সর্বশেষ অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে আদালত ৬ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং বাকি ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন, যার ভিত্তিতে বিচার কার্যক্রম চলবে।
অন্যদিকে অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের পক্ষে আইনজীবী এম এ সামাদ মামলাটিকে হয়রানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মালামাল সরবরাহ করা হলেও অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং আত্মসাতের চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগও বাস্তবসম্মত নয়।
মামলার বাদীপক্ষ বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আদালতের এ আদেশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচিত মামলাটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন:








