চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জে দুইপক্ষের সংঘর্ষে অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় শিবগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু শিবগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত ২ ও ৩ এপ্রিল শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর বাজার এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, দোকান লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় এখনো আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় এজাহার দিলেও পুলিশ এক পক্ষের মামলা রজু করায় অপর পক্ষ পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছে।
সরেজমিনে দূর্লভপুর বাজার এলাকায় ভুক্তভোগী কাবির হোসেনের স্ত্রী রিপা খাতুন বলেন, গত ২ এপ্রিল রসতে আমার স্বামীর কনফেকশনারির দোকানে প্রতিপক্ষের লোকজন ঢুকে মারধর ও দোকান ভাঙচুর করে। পরদিন সকালে দোকানের সমস্ত মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমরা শিবগঞ্জ থানায় এজাহার দিলেও অদ্যবধি থানা কর্তৃপক্ষ সেটিকে মামলা হিসেবে রজু করে নি। বরং উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাদ্দামের বোন সানোয়ারা জানান, তার ভাই সাদ্দাম বিদেশ থেকে দেশে আসলে তার কাছে পারভেজ, আসাদুল ও তাদের দলবল ৭ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
ভুক্তভোগী সাদ্দামের স্ত্রী সারমিন আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এসআই দেলোয়ার হোসেনসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আকস্মিকভাবে আমার ঘরে ঢুকে আমার স্বামী সাদ্দামকে না পেয়ে তার একটি স্মার্ট ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্রটি জোর করে নিয়ে যায়। যা এখনো ফেরত দেয় নি।
আরেক ভুক্তভোগী আজমের স্ত্রী শামীমা আক্তার জানান, সেদিন রাতের ঘটনায় আমি আতংকিত হয়ে বাপের বাড়ি চলে গেলে সে রাতেই পারভেজ আলী ও আসাদুলের লোকজন আমার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
ভুক্তভোগীদের ভাষায় প্রতিপক্ষের নেতৃত্বদানকারী দুর্লভপুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক মোঃ পারভেজ আলী তাদের সকল অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, দুর্লভপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী মাদকের সিন্ডিকেট রয়েছে। আর এ মাদক ব্যবসায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশা ও দলের উঠতি বয়সের যুবকেরা জড়িত। আমি ইউপি চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে উক্ত ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি। দূর্লভপুর।বাজারে মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ে মাদক বেচাকিনা ও মাদক সেবন রোধ করতে এলাকার সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো: শাহজাহান আলী বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমি সেখানে দ্রুত ছুটে যায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। এসময় সেখানে থাকা শিবগঞ্জ থানা পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার অনুরোধ করলে এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে আমাদের চেয়ার থাকবে না'।
এ ব্যাপারে ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেলোয়ার হোসেন ইউপি সদস্য শাহজাহানের অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন আসাদুল ইসলামের একটি এজাহার পেয়েছি যা ওসি স্যার মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছেন। কিন্তু রাসেলের কোন এজাহার আমার কাছে আসেনি। যদিও থানার মুন্সিখানার রেজিস্টারে নথিভুক্ত হয়েছে। যার স্বারক নং ৯৭১(৪/৪/২০২৬)।
এ ব্যাপারে দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আজম আলী জানান, উভয় পক্ষই সময় সুযোগ মতো মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সাথে জড়িত। তিনি আরো বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছি। শিবগঞ্জ থানা পুলিশকে বলেছি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। কিন্তু পরে জানতে পারি শিবগঞ্জ থানা পুলিশ পারভেজ আলী ও আসাদুল পক্ষের মামলা রজু করে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করছে। তিনি আরও জানান, আমার জানা মতে এজাহার ভুক্ত আসামি রাসেল (২২) দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকে না। এমনকি বর্তমানে সে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নয়।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, রাসেল ইসলামের কোন এজাহার আমার কাছে আসেনি। এজাহার আসলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, যদি এসআই দেলোয়ার হোসেন 'নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে আমাদের চেয়ার থাকবে না' এমন উক্তি করে থাকে তবে সেটা বে-আইনী।
আরও পড়ুন:




.jpg)



