সোমবার

৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩ চৈত্র, ১৪৩২

বাঁশখালীতে ‘রইশ্যা ডাকাত’কে ঘিরে ক্ষোভ, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩৬

শেয়ার

বাঁশখালীতে ‘রইশ্যা ডাকাত’কে ঘিরে ক্ষোভ, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের বলিপাড়া ও পূর্ব কাহারঘোনা এলাকায় মাদক কারবার বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘রইশ্যা ডাকাত’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই এসব এলাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা বেড়ে যায় এবং অনেক সময় প্রকাশ্যেই মাদকের বেচাকেনা হয়। মাদকের সহজলভ্যতার কারণে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ এতে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ও পারিবারিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ অবস্থার জন্য রশিদ আহমদ ওরফে রইশ্যা ডাকাতকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ অনুযায়ী, রশিদ আহমদ উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সরল ইউনিয়নের পূর্ব কাহারঘোনায় ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি সেখানে একটি ইয়াবা-কেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে তরুণদের মাদকের দিকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তিনি একটি সংঘবদ্ধ চোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত এবং তার বসতঘর থেকেই মাদক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তার বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা হয়েছে এবং তিনি কারাভোগও করেছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এসব অভিযোগের প্রতিবাদে গত ৩১ মার্চ পূর্ব কাহারঘোনা এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে এরপরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এলাকায় খুব সহজেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে এবং তরুণদের একটি অংশ দ্রুত বিপথে যাচ্ছে। এতে পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে পূর্ব কাহারঘোনা এলাকাকে মাদকমুক্ত করা জরুরি।



banner close
banner close