পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক যুবককে মারধর ও হত্যার উদ্দেশ্যে এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে বিএনপি, যুবদল ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে কাকড়াবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগীর পিতা মো. আ. গনি খাঁ (৫০) বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন—কিসমত খাটাশিয়া গ্রামের কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, কাকড়াবুনিয়া গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সম্পাদক মাসকুর হাওলাদার, গাবুয়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেম মাস্টারের ছেলে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম চান, হানিফ মৃধা, আবু সালেহ মূসা, ছগির মল্লিক, সিয়াম, আ. রহিম চান, আলমগীর হাওলাদার ও প্রান্তসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন খাঁ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষাবাদের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিতে থাকে।
গত ৩০ মার্চ রাতে মামুন খাঁ মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের একটি সড়কে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা তার পথরোধ করে। এ সময় তারা পুনরায় চাঁদা দাবি করে। ভুক্তভোগী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
মারধরের একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হত্যার উদ্দেশ্যে কামাল হোসেনের কাছে থাকা এসিডজাতীয় পদার্থ তার শরীরে নিক্ষেপ করা হলে শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাদী মো. আ. গনি খাঁ বলেন, “আমার ছেলে চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন:








