দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো পিরোজপুরেও তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব দেখা দিয়েছে। জিয়ানগর উপজেলায় কয়েকদিন ধরে অসহনীয় গরমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সড়ক ও বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কম, অনেক জায়গায় দেখা গেছে ফাঁকা রাস্তা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রচণ্ড রোদ ও গরমের কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। অনেক অভিভাবকও সন্তানদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বাইরে বের হতে বাধা দিচ্ছেন। এতে শিক্ষা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে।
অন্যদিকে তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ। দিনমজুর, অটোরিকশা চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ জানিয়েছে, গরমের কারণে যাত্রী কম পাচ্ছেন।
আল আমিন নামে এক স্থানীয় অটোরিকশা চালক বলেন, “এই গরমে মানুষ বাইরে বের হয় না। সকাল থেকে বসে আছি, তেমন যাত্রী পাই না। সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।”
গাবগাছিয়া গ্রামের ইকরা আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক হফেজ ইব্রাহিম বলেন, “এই তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থও হয়ে পড়ছে।”
কুলসুম বেগম নামে এক বৃদ্ধা জানান, “এমন গরম আগে খুব কমই দেখেছি। বাইরে একটু বের হলেই মাথা ঘুরে যায়।”
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, তীব্র গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া, বেশি পানি পান করা এবং রোদ থেকে নিজেকে রক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল রায় বলেন, “তীব্র গরমের সময় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। রোদে কম বের হওয়া, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করা এবং শিশু ও বয়স্কদের যত্ন নেওয়া জরুরি। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সবসময় প্রস্তুত রয়েছি।”
পিরোজপুরের মানুষ স্বস্তি পেতে বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকলেও, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:








