ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে এক কিশোরী (১৫) তার বাবা (৩৭) কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়ে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভোলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনার চরে জেগে ওঠা মদনপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ও পরিচয় (বয়স ৩৭) জানা গেলেও গণমাধ্যমে তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা তাসলিমা বেগম জানান, স্বামীর নির্যাতনের কারণে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। ওই সময় তিনি মেয়েকে স্বামীর কাছে রেখে যেতে বাধ্য হন। অভিযোগ, ওই সুযোগে অভিযুক্ত বাবা দীর্ঘদিন ধরে মেয়েকে গলায় দা ধরে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে আসছিলেন।
সম্প্রতি তাসলিমা বেগম বাবার বাড়ি থেকে ফিরে এসে মেয়ের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে জানতে চাইলে কিশোরী তাকে সব খুলে বলে। স্বামীকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে অভিযুক্ত বাবা তাসলিমা বেগমকে মারধর করেন এবং পরে ডাক্তার থেকে ওষুধ এনে নিজ মেয়েকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী কিশোরী নিজেই জানিয়েছেন, ‘আমার লম্পট বাবা নির্জন ঘরে আমাকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমি ইজ্জত বাঁচাতে বাধা দিলে তার ধরা দা দিয়ে আমার পা কেটে যায়। আমি গর্ভধারণ করলে সে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। আমি এই লম্পটের ফাঁসি দাবি করছি।’
গর্ভপাতের সময় সাত মাসের একটি ভ্রূণ জন্ম নিলে তা বাড়ির টয়লেটের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে গত ৩ মার্চ সন্ধ্যায় কিশোরীর মা ও খালা তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবা পলাতক রয়েছেন। অপরদিকে, ঘটনা চাপাচাপি দিতে অভিযুক্তের ভাই ও বড় মেয়ের জামাতা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে কিশোরীর মা তাসলিমা বেগম অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম গত ৪ মার্চ দিবাগত রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন:








