মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে একদিকে যেমন ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে বাজারে সরবরাহ সংকটের অভিযোগ উঠেছে।
বিইআরসি গত ২ এপ্রিল নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। এতে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ৫.৫ কেজির সিলিন্ডার ৭৯২ টাকা, ১২.৫ কেজি ১ হাজার ৮০১ টাকা, ১৫ কেজি ২ হাজার ১৬১ টাকা, ১৬ কেজি ২ হাজার ৩০৫ টাকা, ১৮ কেজি ২ হাজার ৫৯৩ টাকা, ২০ কেজি ২ হাজার ৮৮১ টাকা, ২২ কেজি ৩ হাজার ১৬৯ টাকা, ২৫ কেজি ৩ হাজার ৬০১ টাকা, ৩০ কেজি ৪ হাজার ৩২১ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা, ৩৫ কেজি ৫ হাজার ০৪১ টাকা এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৬ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন দামে এলপিজি কিনতে গিয়ে তারা বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন। রায়েরবাজারের গৃহিণী শামীমা আক্তার বলেন, আমাদের বাসায় লাইনের গ্যাস নেই। গত মাসে অনেক কষ্টে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনেছি। এখন আবার দাম বাড়ায় আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রান্না করা কঠিন হয়ে পড়বে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় গ্যাস কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আমজাদ কবির বলেন, বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়ছে। গ্যাস কিনতে এসে দেখি এখানেও বাড়তি দাম। প্রয়োজনের কারণে বেশি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারে গ্যাস সংগ্রহ করতে আসা চাকরিজীবী রাইদা রহমান অভিযোগ করেন, “দাম বাড়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সিলিন্ডার কমে যায়। রেকর্ড দামে কিনতে রাজি হয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এটি কৃত্রিম সংকট কিনা তা তদন্ত করা উচিত।
অন্যদিকে বিক্রেতারা সরবরাহ সংকটের কথা জানিয়েছেন। কারওয়ান বাজারের এলপিজি বিক্রেতা সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকরা আমাদের ওপর ক্ষোভ দেখাচ্ছেন, কিন্তু আমরা নিজেরাও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাচ্ছি না। ৫০টি অর্ডার দিয়ে ১০টিও পাচ্ছি না।
নিউমার্কেট এলাকার এলপিজি ব্যবসায়ী মো. নুরনবী সিকদার বলেন, দাম বাড়ার পর বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোম্পানিগুলো ঠিকমতো সরবরাহ দিচ্ছে না। গ্রাহকরা মনে করছেন আমরা গ্যাস লুকিয়ে রাখছি, কিন্তু বাস্তবে বিক্রি কমে গেছে।
এ বিষয়ে বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এলপিজি বাজার মনিটরিংয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, এলপিজি বহনকারী একাধিক জাহাজ পাইপলাইনে রয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত আছে।
আরও পড়ুন:








