বৃহস্পতিবার

২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯ চৈত্র, ১৪৩২

জয়পুরহাটে সরকারি পুকুরের মাটি ও বালু লুটের অভিযোগ: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৭

শেয়ার

জয়পুরহাটে সরকারি পুকুরের মাটি ও বালু লুটের অভিযোগ: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে একটি সরকারি পুকুর থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ও‌‌ বালু লুটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার উত্তর হাটশহর গ্রামের মাঝিনা নামে এই পুকুরটি প্রায় তিন মাস ধরে প্রকাশ্যেই অবৈধভাবে খনন করে মাটি ও বালু বিক্রি করা হচ্ছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে মাটি তুলে পাশের বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই অব্যাহত রয়েছে এবং এতে পুকুরটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলোও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয়দের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকার সুযোগ নিয়েই এই অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, উত্তর হাটশহর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে মাটি ব্যবসায়ী নুর নবী দিন-রাত মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এর কারণে এলাকায় শব্দদূষণ বাড়ছে, রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। এর আগে এসিল্যান্ড এসেছিল কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েই চলে গেছে।

সরকারি সম্পদ এভাবে লুটপাট হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী নুর নবী ও সাবেক ইউপি সদস্য মুকুলকে কল করা হলেও তারা রিসিভ করেনি।

এবিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা চৌধুরীর বক্তব্যের জন্য ফোন দেওয়া হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি। অনেকদিন আগে একবার স্টপ করা হয়েছিল, আবার কাটলে আবার স্টপ করা হবে। সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনওর সাথে কথোপকথনের কিছুক্ষণ পরই অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক নিজেই ফোন দিয়ে প্রতিবেদককে বলেন, এটি তার লিজ নেওয়া পুকুর এবং তিনি পুকুরটি চাষের উপযোগী করতে সংস্কার কাজ করছেন। তার দাবি, পুকুরের মাঝখানে উঁচু জায়গা থাকায় পানি ব্যবস্থাপনা ও চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছিল। এজন্য জায়গাটি সমান করা হচ্ছে এবং উপরের নরম মাটির কারণে যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় কিছুটা গভীর করা হয়েছে।

বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, শুধুমাত্র একদিন পাশের একটি স্থানে প্রায় ৪০ গাড়ি বালু নেওয়া হয়েছিল, এর বাইরে আর কোনো বালু উত্তোলন করা হয়নি।

এসময় তিনি প্রতিবেদককে আরও বলেন, তুমি ইউএনওকে ফোন দিয়েছিলে, তিনি আবার আমাকে ফোন দিয়ে বলতেছে যে, ঘটনা দেখেন তো আপনার পুকুরের জন্য তো আমরাও কিছু বলতেছিনা, এই জিনিসগুলো তো আমাদের একটা চাকরির ব্যাপার। তো একটু দেখেন। আমি বললাম, আমার ছোট ভাই আমি কথা বলতেছি সমস্যা নাই।

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের এইরকম কার্যকলাপ করার সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলজার হোসেন বলেন, আমি যেহেতু বিষয়টি অবগত নয়,সেহেতু আমি এখন কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না। আগে বিষয়টি জানি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া বলেন, এইরকম কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



banner close
banner close