বুধবার

১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮ চৈত্র, ১৪৩২

জাল সনদধারী ৭৩৯ জনের কাছে সরকারের পাওনা ৫৩৪ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৩৪

শেয়ার

জাল সনদধারী ৭৩৯ জনের কাছে সরকারের পাওনা ৫৩৪ কোটি টাকা
ছবি সংগৃহীত

দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদে চাকরির বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) প্রতিবেদনে। ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ৭৩৯ জন জাল সনদধারী শনাক্ত হয়েছে, যাদের কাছ থেকে সরকারের মোট আদায়যোগ্য অর্থ প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা।

ডিআইএ সূত্রে জানা যায়, এই সময়ে দেশের ৭ হাজার ৩৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে এসব জাল সনদধারী শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ২ হাজার ১৮৬ একর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি বেহাত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।

জাল সনদের মাধ্যমে চাকরির নির্দিষ্ট উদাহরণও পাওয়া গেছে। কুমিল্লার বড়ুরা উপজেলার বাতাইছড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আক্তার হোসেনের জমা দেওয়া কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদটি জাল প্রমাণিত হয়েছে। তার কাছ থেকে ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হযরত শাহজালাল (রা.) উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নাজিম উদ্দিনের নিবন্ধন সনদ জাল হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় তার কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা আদায়যোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিআইএর তথ্যানুসারে, পাঁচ বছরে মোট ৮ হাজার ১৮টি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ হাজার ৯৮টি এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আরও ১ হাজার ৮২টি প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

অর্থবছরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮৬টি জাল সনদ শনাক্ত করে ৪৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি আদায়যোগ্য নির্ধারণ করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাল সনদের সংখ্যা বেড়ে ১২৭-এ দাঁড়ায় এবং আদায়যোগ্য অর্থ ৯৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় পৌঁছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০৫টি জাল সনদের বিপরীতে ৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা আদায়যোগ্য নির্ধারণ করা হয়।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২৭৪টি জাল সনদ শনাক্ত হয় এবং আদায়যোগ্য অর্থ দাঁড়ায় ১৯৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আরও ১৪৭টি জাল সনদ শনাক্ত হওয়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৯-এ।

অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি বেহাতের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬৩৮ একর, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৬৫ একর, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৩২ একর এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬৫৭ একর জমি দখলে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও ১৯৯ একর জমি বেহাত হয়েছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের জমি কমে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। মধুবাগের শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শান্তিনগরের নয়াটোলা এ ইউ এন মডেল কামিল মাদ্রাসা, যাত্রাবাড়ী মান্নান হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোপালগঞ্জের কে কে টি হাজী এন সি ইনস্টিটিউট এবং গেন্ডারিয়ার ফজলুল হক মহিলা কলেজের জমি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে।

এ বিষয়ে ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম. এম সহিদুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিয়মিত পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে। জাল সনদ ও জমি বেহাতের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।



banner close
banner close