বুধবার

১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮ চৈত্র, ১৪৩২

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্যসহায়তায় তিন ক্যাটাগরির নতুন ব্যবস্থা চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:৪৬

শেয়ার

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্যসহায়তায় তিন ক্যাটাগরির নতুন ব্যবস্থা চালু
ফাইল ছবি

কক্সবাজার ও ভাসানচরে বসবাসরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আজ থেকে খাদ্যসহায়তায় তিন ক্যাটাগরির নতুন নিয়ম চালু করেছে। দাতা দেশগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ায় এ পরিবর্তন করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় রোহিঙ্গাদের খাদ্যনিরাপত্তা ও সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতির ভিত্তিতে তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া হবে। এতে প্রতি পরিবারের রেশনের পরিমাণ পরিবর্তন হবে। আগে সবাইকে মাথাপিছু মাসে ১২ ডলার সমপরিমাণ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হতো। এখন তা তিন স্তরে বিভক্ত: সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ শতাংশ মানুষ পাবেন মাথাপিছু ৭ ডলার; মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৫০ শতাংশ পাবেন ১০ ডলার; এবং ৩৩ শতাংশ পাবেন ১২ ডলার। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি, নারী-নেতৃত্বাধীন, শিশু-নেতৃত্বাধীন বা বয়স্ক সদস্যযুক্ত পরিবারগুলো অতিরিক্ত ৩ ডলার পাবেন।

জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য বার্ষিক বাজেট ছিল প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছর কমে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখের কাছাকাছি।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না পেলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে। খাদ্যসহায়তা কমলে রোহিঙ্গাদের খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, পুষ্টিহীনতা বাড়বে এবং অনেকে জীবিকার সন্ধানে ক্যাম্পের বাইরে চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চুরি ও ডাকাতিসহ অপরাধ বৃদ্ধি পেতে পারে।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের জানান, খাদ্যসহায়তায় ঘাটতি দেখা দিলে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ জীবিকার তাগিদে স্থানীয় এলাকায় গিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে।



banner close
banner close