হাইকোর্টের আদেশ অমান্য পূর্বক বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জুগীরকান্দি'তে নিহা ইট ভাটায় চলছে ইট উৎপাদন কার্যক্রম।
রবিবার দুপুর ২টায় কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের জুগীরকান্দি গ্রামে নিহা ইট ভাটায় অবৈধভাবে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ইট তৈরির কার্যক্রম চলমান রেখেছে। এমন তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে নিহা ইট ভাটায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ভাবে ইট প্রস্তুত করার চিত্র সরেজমিনে দেখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট)নুরুল আমিন।
ভুক্তভোগী স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রায় ১২ হাজার একর জমির মধ্যস্থানে নিহা ইট ভাটার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাদিম অবৈধভাবে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ইট তৈরির কার্যক্রম চলমান রেখেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ মার্চ রবিবার দুপুরের দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নুরুল আমিন নিহা ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করে নিহা ইট ভাটার চুলার উপরে ইট প্রস্তুত করার স্থানে জ্বালানো আগুন ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের দিয়ে পানি ঢেলে ইট ভাটার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার পক্রিয়া করেন। মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে নিহা ইট ভাটায় ইট তৈরির কার্যক্রম চলমান রাখার বিপরীতে উপযুক্ত শাস্তির বিধান থাকলেও কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিন নিহা ইট ভাটা কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত শাস্তি না দেওয়ার অভিযোগ এসেছে।
বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও এ.এফ.এম সাইফুল করিম এর যৌথ বেঞ্চে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি নিহা ইট ভাটার ইটপ্রস্তুত করার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা দিয়ে মহামান্য হাইকোর্ট আদেশ জারি করেন।
এদিকে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে নিহা ইটভাটা কর্তৃপক্ষ তাদের ইট তৈরির কার্যক্রম বন্ধ না রেখে বরং দিগুণ উৎসাহে তাদের ইট তৈরি ও পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিন হাতে নাতে ধরলেও এর কোন উপযুক্ত শাস্তি না দিয়ে এটি মহামান্য হাইকোর্টের বিষয় বলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে ইট ভাটার মালিক মোহাম্মদ নাদিম এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কলটি রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নুরুল আমিন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান- নিহা ইট ভাটা পর পর দ্বিতীয়বার আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ইট প্রস্তুত করার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। আমরা ইট ভাটায় পানি দিয়ে প্রাথমিক শাস্তি দিয়েছি। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহা ইট ভাটার বিরুদ্ধে কেন যথার্থ ব্যবস্থা নেওয়া হইবে না এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে প্রতিউত্তর দিতে পারেননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিন।
জেলা প্রশাসন কুমিল্লা সূত্রে জানা যায়, নিহা ইট ভাটা কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসেও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ইট প্রস্তুত কার্যক্রম চলমান রেখে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিনের নিকট অপরাধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুছলেখা দেন এবং ২৯ মার্চ একই অপরাধ সংঘঠিতসহ পূর্বের মুছলেখা ভঙ্গ করে নিহা ইট ভাটায় ইট প্রস্তুত কার্যক্রম চলমান রাখার চিত্র দেখা গেছে। তবে একই অপরাধ পরপর দ্বিতীয়বার সংঘটিত হলেও এর বিপরীতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ইউএনও নুরুল আমিন নিহা ইট ভাটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোন প্রকার যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। সাধারণ মানুষের দাবি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিনের সাথে নিহা ইট ভাটার মালিক মোহাম্মদ নাদিমের যোগসাজশ রয়েছে বিধায় নিহা ইট ভাটায় পানি ঢালার মত সাধারণ শাস্তি প্রয়োগ করেন ইউএনও চৌদ্দগ্রাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম থানার পুলিশ সদস্যসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
আরও পড়ুন:





.jpg)

.jpg)
