পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বিয়েবাড়িতে ‘গেটের টাকা’কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বরপক্ষের প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়ী ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে বরপক্ষের ৩ জন এবং কনেপক্ষের ১ জন রয়েছেন।
বর রাকিব মল্লিক, তিনি একই ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের আফতার মল্লিকের ছেলে। কনে মিম, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সাগর মিয়ার মেয়ে।
আহতরা হলেন,বর রাকিব মল্লিকের ছোট ভাই রাসেল মল্লিক (২৫), মামা শফিক হাওলাদার (২৬), মামাতো ভাই শাকিল হোসেন (১৬) এবং কনের মামা জামাল হাওলাদার (৪০)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিয়েবাড়ির গেটে টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে নারী সদস্যের গায়ে লাঠি লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে চারজনকে প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে একজনকে চিকিৎসার জন্য বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
কনের বাবা সাগর মিয়া জানান, পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে রাকিব ও আমার একমাত্র মেয়ে মিমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী গতকালকে তারা আমাদের বাড়িতে কনে আনতে যায়। তারা কনে বরের বাড়িতে নিয়ে আসলে আমরা আজকে আমাদের বাড়িতে জামাইসহ নিতে যাই। পরে তা আজ অনুষ্ঠানে গেটের টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে তারা দাবি করেন, কনেপক্ষ থেকে কাউকে মারধর করা হয়নি।
অন্যদিকে, বরের বড় ভাই হারুনা রশিদ মল্লিক অভিযোগ করেন, গেটের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কনে পক্ষের লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং অনুষ্ঠানের নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে উভয় পক্ষই বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত ইমাম মেহেদী জানান, এ বিষয়ে এখনো আমরা কোন তথ্য পাইনি, যদি কোন অভিযোগ পাই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন:


.jpg)





