চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার একমাত্র এবং ঐতিহ্যবাহী জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনের জৌলুস ফিরিয়ে আনতে এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল ৫ টায় ‘জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা ও সংরক্ষণ কমিটি’র উদ্যোগে স্টেশনের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে থাকা এই স্টেশনটিকে আধুনিকায়নের দাবিতে স্থানীয় শত শত মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দামুড়হুদা উপজেলার রেল যোগাযোগের প্রধান প্রাণকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও জয়রামপুর স্টেশনটি বর্তমানে এক প্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্টেশনের জরাজীর্ণ দশা এবং ট্রেন না থামার কারণে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় বক্তাদের মতে, এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। অথচ লুপ লাইন বন্ধ থাকায় এবং আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় স্টেশনটি স্থবির হয়ে পড়েছে।
মানববন্ধন থেকে রেল প্রশাসনের কাছে মূলত সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি তুলে ধরা। দাবিগুলো হলো গুরুত্বপূর্ণ দুই ট্রেন সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস এবং কপোতক্ষ এক্সপ্রেস-এর (আপ ও ডাউন) যাত্রা বিরতি অবিলম্বে নিশ্চিত করা।
স্টেশনের কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং ট্রেন ক্রসিংয়ের জটিলতা কাটাতে বন্ধ থাকা লুপ লাইনটি পুনরায় চালু করা। জরাজীর্ণ স্টেশন ভবন, প্ল্যাটফর্ম ও যাত্রী ছাউনি আধুনিকায়ন করা। পর্যাপ্ত টিকিট বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্টেশন মাস্টারসহ কর্মী নিয়োগ দেওয়া। স্টেশনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দামুড়হুদা থানার একমাত্র স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও এখানে বড় কোনো ট্রেন না থামায় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের জেলা শহরে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।" লুপ লাইন বন্ধ থাকায় ট্রেন চলাচলের সময় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
এই মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন। সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয় যে, যদি অনতিবিলম্বে এসব দাবি মেনে নিয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে আগামীতে রেল অবরোধসহ আরও কঠোর ও জোরালো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রেল প্রশাসন জয়রামপুরবাসীর এই প্রাণের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে স্টেশনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবে এমনটাই এখন পুরো দামুড়হুদাবাসীর প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন:








