সোমবার

২৩ মার্চ, ২০২৬ ৯ চৈত্র, ১৪৩২

জ্বালানি সংকটে গাইবান্ধায় সব পাম্প বন্ধ, জনদুর্ভোগ বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৪৯

শেয়ার

জ্বালানি সংকটে গাইবান্ধায় সব পাম্প বন্ধ, জনদুর্ভোগ বাড়ছে
ছবি সংগৃহীত

উত্তরের জেলা গাইবান্ধা-য় তীব্র জ্বালানি সংকটে জেলার সাত উপজেলার ১৭টি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর থেকে পুরো জেলায় জ্বালানি বিক্রি কার্যত বন্ধ রয়েছে।

গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শহর ও উপজেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে সব পাম্প বন্ধ থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে।

সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন পাম্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জ্বালানি ঘাটতির কারণ ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে।

ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ আসছে তার অর্ধেকেরও কম। ফলে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি বিক্রি চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। শহরের দাড়িয়াপুর রোড এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলায় দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শহরের প্রধান পাম্পগুলোর একটি এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন টানা তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। একইভাবে রহমান ফিলিং স্টেশনেও তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এক লিটার তেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রির দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসন্তোষ দেখা গেছে।

পাম্প মালিকদের দাবি, বাইরের এলাকা থেকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, আতঙ্কে মজুদ করার প্রবণতা এবং সরবরাহ ঘাটতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

এদিকে তেল পাওয়ার আশায় বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, টানা কয়েক দিন চেষ্টা করেও কোথাও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান সমাধান আসেনি।



banner close
banner close