সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে চুরির মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জেরে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই বৃদ্ধের জমির ফসল লুটপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
গত ১৮ মার্চ উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নছরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের ক্বারী গিয়াসউদ্দিনের ছয় বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একই গ্রামের আনছর আলী (৭০)-কে আসামি করে মামলা করা হয়। আনছর আলীর পরিবারের অভিযোগ, পূর্বে এক চুরির ঘটনায় অভিযোগকারী পক্ষের আত্মীয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে আনছর আলী বাজারে গেলে তাকে ধরে এনে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে ভিকটিমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার স্ত্রী পদমালা বেগম ও পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আনছর আলীর ছেলে ফকির আলী জানান, তার বাবা একজন ধর্মপরায়ণ মানুষ এবং চুরির মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি সঠিক বিচার চান। আনছর আলীর স্ত্রী পদমালা বেগম বলেন, তার স্বামীকে বাজার থেকে ধরে এনে মারধর করা হয়েছে এবং তাদের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, যদি তার স্বামী অপরাধী হন তবে বিচার চান, আর নির্দোষ হলে যারা তার সম্মান নষ্ট করেছেন এবং তাদের ক্ষতি করেছেন তাদের শাস্তি চান।
এদিকে ভিকটিমের পিতা ক্বারী গিয়াসউদ্দিন তার মেয়ের সঙ্গে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে এর বিচার চান। নাছিমপুর বাজার কমিটির সেক্রেটারি মোজাম্মিল আলী বলেন, আনছর আলী একজন ভালো মানুষ এবং সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে একজন বৃদ্ধকে এভাবে লাঞ্ছিত করা ঠিক হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফয়েজ উদ্দিন জানান, প্রথমে ধর্ষণের কথা বলা হলেও পরে জানা যায় এটি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ।
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মতিউর রহমান বলেন, মেয়েটিকে ধর্ষণের শিকার বলা হলেও প্রাথমিক পরীক্ষায় কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আনছর আলীর জমি থেকে প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকার ফসল লুটপাট করা হয়। ফসল লুটপাট এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে ভিকটিমের পিতা ক্বারী গিয়াসউদ্দিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা দোয়ারাবাজার থানার উপ-পরিদর্শক জলিল জানান, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধকে মারধর করে আটকে রাখা হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। তিনি বলেন, মেডিকেল রিপোর্টের পর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ফসল লুটপাট এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:








