ডিস সংযোগের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ফরিদপুরের দিরাজতুল্লা মাতুব্বার ডাঙ্গী এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অম্বিকাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে ঘিরে গণপিটুনি, গ্রেফতার এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অভিযোগে এলাকায় নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাবলু মেম্বার ও তার ভাই আখতারের সঙ্গে এলাকার ডিস ব্যবসায়ী আসলাম মাস্টারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, আখতার প্রায়ই আসলাম মাস্টারের ডিস লাইনের তার কেটে দিতেন। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ ও থানায় অভিযোগ করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি, বরং ধীরে ধীরে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ জমতে থাকে।
ঘটনার দিন আখতার, রাকিব, জয় তার সহযোগীরা ডিস লাইনের তার কাটার সময় বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাশের কয়েকটি বসতবাড়ির টিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। এতে অন্তত পাঁচটি বাড়িতে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন আহত হন। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আখতারকে আটক করে গণপিটুনি দেয় বাকি দুইজন পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর নতুন মোড় নেয় পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে, পূর্বের বিরোধের জেরে আখতারের স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে জাতীয়তাবাদী প্রবাসী দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সামসুল ইসলামকে গণপিটুনির হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করান। তবে পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় সামসুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, এলাকাবাসী সাথে দেখতে গিয়েছিলো।
এদিকে, সামসুল ইসলামকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বাড়িওয়ালার ভাষ্য অনুযায়ী, যে ঘরে আখতারকে গণপিটুনি দেওয়া হয়, সেখান থেকে তার শ্বশুর আলম ও শাশুড়ি একটি চামড়া মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু কুড়ার বস্তা থেকে বের করে সামসুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে নিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ডিস লাইন কাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এ গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। তবে এর আড়ালে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরও পড়ুন:








