নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সোমবার (২৩ নভেম্বর) চিলাহাটি হাইস্কুল মাঠে ‘স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশন’ নামধারী একটি সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ চিলাহাটি’র পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে বলা হয়, উক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রলীগ এবং যারা জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও একই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজনের আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে তাদের নিজেদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ, শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, প্রোগ্রামের দিন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার দায় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।
এ অবস্থায় চিলাহাটিবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে না দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন তারা।
২০২২ সালের ছাত্রলীগের একটি কমিটিতে দেখা যায় চিলাহাটি সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ সুলতানুল আরেফিন তামিম স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের সহ সভাপতি, ১নং
সহ-সভাপতি মোঃ ইমরান ইসলাম স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের উপ অর্থ সম্পাদক, ২নং সহ-সভাপতি মোঃ নাজমুল হাসান স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক, ৩ নং সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম জনি স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক,
সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহরিয়ার হোসেন শাদ স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের উপ পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক,
সহ- সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাওন ইসলাম পাভেল স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সহ স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের ১৬১ সদস্যের কমিটির অনেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী হিসেবে বিভিন্ন পদে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে স্বপ্নতরী ফান্ডেশনে ছাত্রলীগ সম্পৃক্তার খবরটি জানাজানি হলে তারা ১৬১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করেন।
স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবু ফারহান জানান, 'কমিটি জুলাই আন্দোলনের পূর্বে করা হয়েছিলো সে সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন কমিটিতে ছিলো বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ায় গতকাল সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিতর্কের কারনে আমাদের প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন, অনেক খরচ হয়েছে প্রগ্রামটি করতে না পারলে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবো।'
ডোমার থানার এস আই শৈলেন চন্দ্র জানান, 'বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। ওটা বন্ধের ব্যাপারে কাজ চলছে। পুলিশ সেখানে পাঠানো হয়েছে।'
আরও পড়ুন:








