মঙ্গলবার

৩০ জুন, ২০২৬ ১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

ঘুষের অভিযোগে এসআই আলমগীর হোসেন প্রত্যাহার, পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২ মার্চ, ২০২৬ ১৭:২৫

শেয়ার

ঘুষের অভিযোগে এসআই আলমগীর হোসেন প্রত্যাহার, পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত
ছবি সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার উপপরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেনকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। রোববার জেলা পুলিশ সুপারের আদেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রদান এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করার শর্তে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে এসআই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত দুটি অডিও কল রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে জনমনে আলোচনা সৃষ্টি হয়।

একটি অডিও রেকর্ডে উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামের একটি পিটিশন মামলার আসামি মো. সাকিব হোসাইনের কাছ থেকে ২৩ জন আসামিকে বাদ দেওয়ার শর্তে ৭০ হাজার টাকা দাবি করার বিষয়টি উঠে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাকিব ১৩ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও অবশিষ্ট অর্থ দিতে না পারায় সংশ্লিষ্ট মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয় এবং এ নিয়ে কথোপকথনে অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ও শোনা যায়।

অন্য একটি অডিওতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা একটি মামলার আসামিদের গ্রেফতার না করার শর্তে আটজনের কাছ থেকে মোট এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্রেফতার করে থানায় আনার হুমকির কথাও অডিওতে উল্লেখ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, তাড়াশ থানায় যোগদানের পর এসআই আলমগীর হোসেন সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্ব পান এবং এরপর বিভিন্ন মামলায় বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেননি বলেও তারা জানান।

এদিকে, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, এসআই আলমগীর হোসেনকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার আদেশের অনুলিপি তিনি পেয়েছেন।



banner close
banner close