পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপে পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এ বছর যাতায়াতের প্রথম তিন দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে ১ লাখ ৯ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বেশি। ২০২৫ সালের প্রথম তিন দিনে যানবাহন পারাপার হয়েছিল ১ লাখ ৮০২টি। টোল আদায়ের ক্ষেত্রেও রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন দিনে পদ্মা সেতুতে মোট টোল আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে এই সময়ে টোল আদায় হয়েছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।
যমুনা সেতুতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ যমুনা সেতু দিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপারের সংখ্যা ছিল ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। টোল আদায়ের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা আদায় হয়েছে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও কোনো বড় দুর্ঘটনা বা দীর্ঘস্থায়ী যানজটের ঘটনা ঘটেনি। সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার ফলেই সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন পারাপার সম্ভব হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও আধুনিক করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নির্দেশনায় সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আসন্ন ঈদযাত্রা সুষ্ঠু করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং বিষয়টি তদারকি করছেন।
ঈদযাত্রা সুষ্ঠু করতে সেতু বিভাগের নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে টোল কালেক্টরদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেল লেন বাড়ানো, নন-স্টপ ইটিসি ব্যবস্থা চালু রাখা, মাওয়া ও এলেঙ্গায় বাস-বে উন্মুক্ত রাখা, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং জোরদার করা, উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নেওয়া নানা ব্যবস্থা, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, সেতুতে প্রতি ৫০০ মিটার পরপর নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা একটি ভারী রেকারসহ মোট তিনটি রেকার দিয়ে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু এবং ইফতার সামগ্রী বিতরণ।
আরও পড়ুন:








