বগুড়ার আদমদীঘিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে কমপক্ষে দুই শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। আহতদের মধ্যে অনেকে আদমদীঘি ও নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবুজার গাফফার জানান, হাসপাতালে দুই শতাধিক আহত চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। আদমদীঘি হাসপাতালে প্রায় ১৫ জন ভর্তি হয়েছেন। গুরুতর আহত দুই জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী জংশন থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বগি সরানোর কাজ শুরু করেছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকেও আরেকটি উদ্ধারকারী ট্রেন সেখানে পৌঁছায়। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাইন মেরামত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে দুই দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ঘটনার পর সান্তাহার জংশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম জানান, কমিটিতে রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, চিফ সিগন্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট রয়েছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সিগন্যাল নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
স্থানীয় সান্তাহার স্টেশন সংলগ্ন বাগবাড়ী এলাকায় দুর্ঘটনার সময় রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। ওয়েম্যান সোহেল রানা জানান, ওই স্থানে কন্ট্রোল রুম থেকে সিগন্যাল ও লাল ব্যানার দিয়ে সতর্কতা দেওয়া থাকলেও ট্রেনের চালক তা উপেক্ষা করেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, তিনি ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত লাইন সচলের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ। তিনি জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ভোগান্তি কমাতে পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের হাতব্যাগ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:








