টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট প্যানেল চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম ফকিরের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ, হতাশা এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকার নির্ধারিত প্রতি কার্ডধারীর জন্য ১০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও দেয়া হয় সাড়ে ৮ কেজি চাল। অভিযোগ রয়েছে, চাল বিতরণের সময় একটি নির্দিষ্ট বালতি দিয়ে মাপার পর সেখান থেকে হাত দিয়ে কিছু অংশ সরিয়ে রাখা হচ্ছিল।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তারা নিজেদের প্রাপ্ত চাল মেপে দেখেন, বরাদ্দের তুলনায় প্রায় দেড় কেজি কম পাচ্ছেন। একাধিক সুবিধাভোগী জানান, তারা গড়ে সাড়ে ৮ কেজির মতো চাল পেয়েছেন, যা সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে স্পষ্টভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এদিকে চাল বিতরণ প্রক্রিয়াতেও দেখা গেছে নানা অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ১২ মার্চের মধ্যে বিতরণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১৩ মার্চ পর্যন্ত চাল বিতরণ করা হয়েছে নিকরাইল ইউনিয়নে।
শুধু তাই নয়, এ ধরনের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট প্যানেল চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গ্রাম পুলিশ ও ইউপি সদস্য দিয়ে অভিযোগকারীদের ম্যানেজ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করলেও অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। এত অভিযোগের পরও কেন নীরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সরকারি সহায়তা কার্যক্রমের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মাহবুব হাসান বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন:








