রবিবার

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১ চৈত্র, ১৪৩২

বগুড়ার ছেলের ভোলায় দাপট হাতিয়ে নিলেন এতিমের অর্থ

ভোলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৩১

শেয়ার

বগুড়ার ছেলের ভোলায় দাপট হাতিয়ে নিলেন এতিমের অর্থ
ছবি বাংলা এডিশন

বগুড়ার ছেলে আহমেদুর রহমান মনপুরা উপজেলার হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর হিসেবে যোগদান করেন ৫ আগস্টের পরে।

যোগদান করে সরকারের মহৎ উদ্যোগ কে বাধাগ্রস্ত করে ভোলার মনপুরা উপজেলার হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর আহমেদুর রহমান। হাতিয়ে নিচ্ছেন এতিম খানার লাখ লাখ টাকা। আর তাতেই অর্ধাহারে, অনাহারে,থেকে দিনাতিপাত করছে মনপুরা উপজেলার এতিম খানার শিশুরা।

ভোলায় মনপুরা উপজেলা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। যেখানে শতকরা ৭০ভাগ লোক দারিদ্রসীমার নিচে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। এ উপজেলা বঙ্গোপ সাগরের উপকুলবর্তী একটি উপজেলা। যেখানকার বাসীন্দাদের জীবন চলে লবন জলে তৃষ্ণা মিটিয়ে।

সেই উপজেলার ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাকে তরান্বিত করতে সরকার প্রায় ৩ শতাধিক এতিম শিশু শিক্ষার্থীদের পুণর্বাসনে সমাজ সেবার মাধ্যমে বাৎসরিক প্রায় অর্ধ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেন।

সরকারের উদ্দেশ্য কে বাঁধাগ্রস্ত করে নিজের অবৈধ সুবিধা নিচ্ছেন অডিটর আহমেদুর রহমান।

এমনি বিষয়টি কেঁদে কেঁদে জানান চর গোয়ালিয়া রহমান শিকদার এতিম খানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা শিহাব উদ্দিন। বলেন আমার প্রতিষ্ঠানের গত বছরের বরাদ্দকৃত অর্থের ৬% টাকা অডিটর আহমেদুর রহমানকে অগ্রীম দিয়ে বিল নিতে হয়েছে। আমাদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করে নেন হিসাবরক্ষণ অফিস অসাধু এ কর্মকর্তা।

অভিযোগ রয়েছে ৫ আগষ্টের পরে বগুড়া থেকে পানিশমন্ট বদলীর আদেশে মনপুরা উপজেলায় যোগদান করেন আহমেদুর রহমান।

এখানে যেগদান করেও তার অপকর্মের চাকা আরো সচল করেছেন বলে মন্তব্য করেন ছোট ছোট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা।

একই অভিযোগ তুলে আহমেদুর রহমানের ভয়ে সংবাদ প্রকাশে তার নাম উল্লেখ্য করতে আপত্তি জানান মনপুরা উপজেলার অভ্যস্তরের শিশু সদন এতিম খানার মুহতামিম মাওলানা মফিজুল ইসলাম।

তিনি বলেন এতিমের অর্থ যারা আত্মসাৎ করেন তাদের কঠিন হিসেব করবেন আল্লাহপাক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আহমেদুর রহমানের সাথে কথা বলতে সরেজমিনে আজ ১৫ মার্চ সকাল ১০ টায় তার কর্মস্থল গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার অফিস সহায়ক বিপুল চন্দ্র বলেছেন রোজার দিনতো স্যার ১০ পরেই ঘুম থেকে উঠেন তার পরে আসবেন।

আপনার স্যারকে কল করে আসতে বলেন এমন আহবান করলে বিপুল চন্দ্র বলেন আমি কল করলে স্যার এসে আমাকে মন্দ বলবে।

সকাল ১১ টায় পুণরায় অফিসে গিয়েও দেখা মেলেনি অডিটর আহমেদুর রহমানের।

তবে এবার বেড়িয়ে এলো থলের বেড়াল ঈদের ছুটির ১ সপ্তাহ আগেই একমাত্র অফিস সহায়কের উপর ভরসা করে অদৃশ্য ক্ষমতা ব্যবহার করে ছুটিতে গেছেন অডিটর।

অভিযুক্ত আহমেদুর রহমানকে একাধিক বার কল করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মনপুরা হিসাব রক্ষক অফিসার বজলুর রহমান (অঃদা) বলেন সে ছুটির আবেদন ব্যাতিত কেন কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন বিষয়টি আমি অবগত নই।

আমাকে সে আজ আপনারা অফিসে গিয়ে তাকে পান নি এমন বিষয়টি ফোনে জানিয়েছেন।

তবে বরিশাল বিভাগীয় হিসাব রক্ষক তৌফিকুল ইসলাম বলেন তার অপকর্মের বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর তাকে পুণরায় বদলীর আদেশ দিয়েছেন। সে এখনো বদলীকৃত কর্মস্থলে কেন যোগদান করছেনা জানা নেই। তবে ঈদের আগের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সে কর্মস্থলে অনুপস্থিতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ঈদের ছুটির ১ সপ্তাহ আগে সে কর্মস্থলে নেইন এমন বিষয় আমার অজানা, তবে ঈদের ছুটির শেষে তাকে মনপুরা উপজেলার হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে উইথড্র করা হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।



banner close
banner close