রাজশাহীর চারঘাটে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সরকারি খাল খনন ও আবাসন প্রকল্পের পুকুর পাড় সংস্কার কাজে ব্যবহৃত একটি স্কেভেটরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করে চারঘাট মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি আবাসন প্রকল্প এলাকায় সরকারি খাল খনন ও পুকুর পাড় সংস্কারের কাজ শুরু হয় গত ৭ মার্চ। কাজটি করছেন উপজেলার গৌড়শহরপুর গ্রামের ঠিকাদার মো. রিদওয়ান। তার অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীরা খনন কাজে বাধা দেয় এবং ব্যবহৃত স্কেভেটরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে যন্ত্রটি পুড়ে গিয়ে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শলুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ইসমাইল হোসেন, হলিদাগাছি আবাসন প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল নেতা স্বপন আলী, যুবদল কর্মী শামীম ইসলাম উজ্জ্বল, জয়, ফয়সাল ও সজিব হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি হলিদাগাছি গ্রামে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবদল নেতাকর্মী ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। ঠিকাদার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা এক্সকাভেটরের চালক রাজন, বয়স ২২ বছর,কে মারধর করে এবং পরে যন্ত্রটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটির কাজ করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের অনুসারী ঠিকাদার মো. রিদওয়ান। অন্যদিকে যুবদল নেতা ইসমাইল হোসেন ও স্বপন আলী কাজটি নিজেদের করার দাবি তুলে এতে বাধা দেন। তারা জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও রাজশাহী-৬ আসনের বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জলের অনুসারী বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার দুই নম্বর আসামি স্বপন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চারঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খালেদ হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মামলা রেকর্ড করে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:


.jpg)





