যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে হাটিকুমরুল হয়ে চান্দাইকোনা পর্যন্ত চার লেনের মহাসড়কের কাজ শেষ হওয়ার মুখে। এছাড়া হাটিকুমরুলে ইন্টারচেঞ্জ ও ১১টি উড়ালসেতু চালু হওয়ায় এবারের ঈদে উত্তরাঞ্চলের প্রধান এই সড়কপথে যানজট ও দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছে হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২টি জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগসূত্র হিসেবে হাটিকুমরুল-বনপাড়া ৫১ কিলোমিটার মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদকে ঘিরে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে শুরু করে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নির্মিত নতুন ইন্টারচেঞ্জ ও উড়ালসেতু যানবাহনের চাপ কমাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, সেতু এলাকায় যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে দ্রুত সরিয়ে নিতে রেকার গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, সেতুতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
হাটিকুমরুল গোলচত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন কাজের কিছু অংশ ঈদের আগে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাসেক-২ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে বগুড়াগামী লেনের অর্ধেক অংশ র্যাম্পিং হিসেবে ব্যবহার করা হবে, ফলে ওই এলাকায় যানজট তৈরি হবে না বলে আশা করা যায়।
মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, ঈদের সময় মূল মহাসড়কে কোনো থ্রি-হুইলার চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে এবার বড় ধরনের যানজট হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মহাসড়কের নিরাপত্তায় প্রায় ১৫০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যেকোনো গাড়ি বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে মহাসড়কে বাড়তি টহল জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সার্বিক প্রস্তুতির ফলে এবার উত্তরাঞ্চলের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে।
আরও পড়ুন:








