ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় সৌদি আরবের মানবিক সহায়তার খেজুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক মোহাম্মদ সিফাত ভূইয়ার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার থেকে বরাদ্দকৃত খেজুর বিতরণে তালিকা ও বাস্তব প্রাপ্তির মধ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলা এডিশনের সাংবাদিককে মামলার ভয় দেখানো হয়।
জানা যায়, সৌদি আরবের মানবিক সহায়তা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার জন্য মোট ৩২ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি কার্টনে ৮টি করে প্যাকেট থাকার কথা ছিল। খেজুর বিতরণের ক্ষেত্রে ইউএনও নিজ উদ্যোগে প্রথমে ১৬ কার্টন খেজুর বিতরণ করেন। তবে ওই বিতরণ কার্যক্রমের পরপরই বরাদ্দ ও বিতরণে গড়মিলের অভিযোগ ওঠে।
ইউএনও কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তালিকায় ১৬টি মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুর বিতরণের দাবি করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বরাদ্দ ও প্রাপ্তির মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
তালিকা অনুযায়ী উত্তর সুহিলপুর এতিমখানার জন্য ২ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেখানো হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা পেয়েছে মাত্র ১ কার্টন। একইভাবে মেড্ডা ওমর ইবনুল খাত্তাব মাদ্রাসার জন্য ৮ প্যাকেট বরাদ্দ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেখানে পৌঁছেছে মাত্র ৫ প্যাকেট।
এদিকে বাকি ১৬ কার্টন খেজুর স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হলে এমপির প্রতিনিধি তা গ্রহণ করতে গিয়ে সেখানেও অসঙ্গতি দেখতে পান। প্রতিটি কার্টনে ৮টি প্যাকেট থাকার কথা থাকলেও কার্টনগুলোতে প্যাকেট সংখ্যায় গরমিল রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে বিষয়টি সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হলে তার নির্দেশে প্রতিনিধি মুফতি ইয়াসিন আরাফাত গরমিলযুক্ত কার্টন গ্রহণে অসম্মতি জানান। সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগে এমপির এমন অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমন অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক মোহাম্মদ সিফাত ভূইয়ার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বাংলা এডিশনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি মোছাব্বির হাসান সজীবকে তিনি মামলার হুমকি দেন এবং এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
আরও পড়ুন:





.jpg)


