শনিবার

১৪ মার্চ, ২০২৬ ৩০ ফাল্গুন, ১৪৩২

চার মাসের বেতন বকেয়া, সংকটে এসএটিভির কয়েকশ গণমাধ্যমকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪১

শেয়ার

চার মাসের বেতন বকেয়া, সংকটে এসএটিভির কয়েকশ গণমাধ্যমকর্মী
ছবি সংগৃহীত

২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এসএটিভিতে কর্মরত তিন শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী চার মাসের বেতন বকেয়া ও প্রশাসনিক অনিয়মের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সিংহভাগ কর্মী বকেয়া বেতনের জন্য আর্থিক সংকটে দিনাতিপাত করছেন, একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নানা বিধিনিষেধ ও অসহযোগিতার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রয়োজনীয় জনবলের মাত্র ৪০ শতাংশ নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে এসএটিভি। এ সংখ্যার অর্ধেকই নতুন করে যোগ দেওয়া কর্মী। নতুন যোগ দেওয়া এক সংবাদকর্মী জানান, যোগদানের পর চার মাস ধরে তিনি কোনো বেতন পাননি। বেতন না পাওয়ায় অফিম আসার গাড়ি ভাড়া জোগাড় করতে না পেরে তাকে প্রায়ই হেঁটে আসতে হয়। এ অবস্থায় অনশন করে রোজা রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চ্যানেলটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাবেক কর্মী বেশ কিছু অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বিগত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে একটি সিন্ডিকেট চ্যানেলটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে আসছে। তিনি বলেন, হেড অব নিউজ মাহমুদ আল ফয়সালের বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের ঘটনা রয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের শাসনামল থেকেই তিনি একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে চিফ নিউজ এডিটর জাহিদুর রহমান মেরুদণ্ডহীন ভূমিকা পালন করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মালিকের নিকটাত্মীয় অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তিনিও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হচ্ছেন বলে দাবি করেন ওই সাবেক কর্মকর্তা।

দীর্ঘদিন ধরে চ্যানেলটিতে কর্মরত এক নারী কর্মী জানান, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও মালিকের ছেলে শামসুল আলম পান্থ সবার সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং আনঅফিসিয়াল আচরণ করেন। তার এমন আচরণে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তিনি আরও জানান, নারী কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের পর তাদের বিরুদ্ধে অন্য ইস্যু দেখিয়ে বরখাস্ত করার ঘটনাও ঘটেছে।

কর্মচারীদের দেয়া যায় না এমন গণনোটিশ, মৌখিক হুমকি, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া এবং সিসি ক্যামেরায় অডিও-ভিডিও রেকর্ড রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি একসঙ্গে একাধিক কর্মীর দাঁড়িয়ে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করাসহ নানা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চিফ অপারেটিং অফিসার আশিক মাহমুদ পদত্যাগ করেছেন।

চাকরি বাঁচানোর স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, এসএটিভির মালিক সালাউদ্দিন আহমেদ তার এসএ পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যবসার অনিয়ম ও দুর্নীতি ঢাকার জন্যই মূলত চ্যানেলটি পরিচালনা করছেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীবান্ধব না, বরং বেতন-বোনাস নিয়ে কর্মীদের সারাবছর কষ্ট দেওয়া হয়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে মালিক ও তার ছেলের তেলমর্দন করে চলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসএ গ্রুপের মালিক সালাউদ্দিন আহমেদ অতীতে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে জানা গেছে। গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি জাতীয় পার্টির সঙ্গেই সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

চ্যানেলটির ঢাকা ও সারাদেশের কর্মকর্তা-কর্মীরা দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার দাবি করেছেন। তাদের বর্তমান মানবেতর জীবনযাপন থেকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।



banner close
banner close