চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের বড়ঘোনা খাটখালী বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত আশ্রয় কেন্দ্র এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক মূর্ত আতঙ্ক। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ এই ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভবনের পাশেই মাদরাসা ও জনবহুল বাজার হওয়ায় চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে কোমলমতি শিশু ও পথচারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষায় এই আশ্রয় কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি পুলিশ ক্যাম্প হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে মাত্র ২০ বছরের মাথায় ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্তমানে ভবনের প্রতিটি পিলারের আস্তর খসে পড়েছে এবং মরিচা ধরা রডগুলো বেরিয়ে এসেছে। পুরো কাঠামোটি এখন কঙ্কালসার অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির পশ্চিম পাশেই রয়েছে খাটখালী বাজার সংযুক্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। ভবনের ঠিক পাশেই রয়েছে একটি নূরানী মাদরাসা, যেখানে প্রতিদিন এলাকার শিশুরা ধর্মীয় শিক্ষা নিতে আসে। এছাড়া সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে জনবসতি। স্থানীয় শিশুরা প্রায়ই ভবনের নিচে ও আশেপাশে খেলাধুলা করে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দা কলিম উল্লাহ্ মিজবাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা প্রতিদিন ভয়ে থাকি। পিলারের রডগুলো যেভাবে বের হয়ে আছে, তাতে সামান্য ভূমিকম্প বা ঝড়ো বাতাসে এটি ধসে পড়তে পারে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে কি প্রশাসনের ঘুম ভাঙবে না?'
নূরানী মাদরাসার এক শিক্ষক বলেন, 'ভবনের পাশেই আমাদের মাদরাসাটি। বাচ্চারা যখন মাদরাসায় আসে, তখন আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হয়। আমরাও থাকি ভয়ে। জরাজীর্ণ এই ভবনের পলেস্তারা মাঝেমধ্যেই খসে পড়ে। আমরা দ্রুত এটি অপসারণের দাবি জানাই।'
গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ওসমান গণি বলেন, 'বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এটি অপসারণের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিনের। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে কয়েক ধফায় বিষয়টি অবহিত করেছি যাতে দ্রুত এটি নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়।'
উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, 'ধারণা করছি ভবনটি তৎকালীন কোনো দাতা সংস্থার করা। যদি এটি
সরকারি ভবন হয়ে থাকে অপসারণের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। আমরা যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে অভিযোগটি পাঠিয়ে ভবনটির বর্তমান অবস্থা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।'
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটার আগেই যেন জরুরি ভিত্তিতে এই পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। জনস্বার্থে এবং জানমালের নিরাপত্তায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বড়ঘোনাবাসী।
আরও পড়ুন:








