শুক্রবার

১৩ মার্চ, ২০২৬ ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

চাঁদাবাজির অভিযোগে কথিত সাংবাদিকসহ তিনজন কারাগারে

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫৬

শেয়ার

চাঁদাবাজির অভিযোগে কথিত সাংবাদিকসহ তিনজন কারাগারে
ছবি সংগৃহীত

শেরপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে কথিত সাংবাদিক মারুফুর রহমান ফকির (৪৭)সহ তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে আদালতে সোপর্দের পর আমলি আদালতের বিচারক ও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদ তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো অন্য দুইজন হলেন—শহরের নারায়ণপুর এলাকার সুমন কুমার দে’র ছেলে সজীব কুমার দে (২৫) এবং সদর উপজেলার বামনেরচর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে মো. জাহিদুল (২৫)।

মারুফুর রহমান ফকির শহরের নারায়ণপুর মহল্লার বাসিন্দা এবং সদর উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের শেরপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানা গেছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বুধবার বিকেলে শহরের মধ্যশেরী এলাকার সৈয়দ আব্দুল্লাহেল হাদী ও সৈয়দা হেলেনা হাদী দম্পতির বাসায় প্রবেশ করে মারুফুর রহমান, সজীব কুমার দে ও জাহিদুল। তারা বাসায় অবৈধ মালামাল রয়েছে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভিডিও ধারণ করেন এবং সৈয়দা হেলেনা হাদীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাদের ছেলেকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় হেলেনা হাদী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে তিনজনকে আটক করে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর হেলেনা হাদী বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মারুফুর রহমান, সজীব কুমার দে ও জাহিদুলের পাশাপাশি নারায়ণপুর এলাকার মৃত লোটন মিয়ার ছেলে মো. তমাল (৩৮)কে আসামি করা হয়েছে। মামলায় ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। তমাল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফুর রহমানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদাবাজি, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার মামলাও রয়েছে বলে জানা যায়। পূর্বে একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলায় তিনি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে তিনজনকে আটক করা হয়। পরদিন তাদের আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



banner close
banner close