মাদারীপুর সদর উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে কসমেটিকস বিক্রেতা জাকির শেখের দুই চোখ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। চার্জশিটে একাধিক আসামির নাম বাদ পড়ার অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পুনঃতদন্তাধীন রয়েছে।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মাঠ গ্রামের বাসিন্দা জাকির শেখকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মফেজ শেখের নেতৃত্বে ১৬ জনের একটি দল। পরে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে সিরিঞ্জ, খেজুর কাটার সরঞ্জাম ও ধারালো চামচ দিয়ে তার দুই চোখ নষ্ট করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জাকির শেখের স্ত্রী ঝিনুক বেগম প্রথমে মাদারীপুর সদর থানায় অভিযোগ দাখিল করলেও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি বলে পরিবার দাবি করেছে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট আদালতে মামলা দায়ের করা হলে আদালতের নির্দেশে মাদারীপুর সদর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় মাদারীপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মহসীনকে।
ভুক্তভোগী জাকির শেখের তথ্য অনুযায়ী, মামলার এজাহারে ১৬ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে দেওয়া চার্জশিটে মাত্র ছয়জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাদ পড়া কয়েকজনের নামের মধ্যে কহিনুর মাতুব্বর, সজিব মাতুব্বর, কামাল মাতুব্বর, অহিদ শেখ, ওমর আলী মাতুব্বর, বাবলু ফকির, সাদ্দাম মাতুব্বর ও তানভির মাতুব্বরের নাম রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ঝিনুক বেগম আদালতে নারাজি আবেদন করলে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৯ সন্তান নিয়ে তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এলাকাবাসীর একজন মেহেদি হাসান সান তথ্য দেন, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পুনঃতদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন:








