সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল কাদের মিলনের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে সেবাপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সময়মতো অফিসে না আসা এবং দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার কারণে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত অফিস সময় থাকলেও সচিব মিলন প্রায়ই দেরিতে অফিসে আসেন। অনেক দিন আবার তাকে অফিসে পাওয়া যায় না। এতে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষজন প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগী কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে এসে সচিবকে না পেয়ে তাদের বারবার ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ উভয়েরই অপচয় হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে দেখা যায়, সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল কাদের মিলন অফিসে উপস্থিত নেই। এ সময় হিসাব সহকারী সচিব রানা ও গ্রাম পুলিশ সদস্য নূরুল হোসেন জানান, সচিব মিলন প্রায়ই দেরিতে অফিসে আসেন। এতে সেবাপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
পরে সকাল ৯টা ৩৯ মিনিটে সচিব মিলন সিএনজিযোগে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন বলে জানা যায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার নিয়ম রয়েছে।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে সচিব মিলন অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি এক সংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে নেন। পরে সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোবাইলটি উদ্ধার করে।
সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাকিউল আযম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী, তাই অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:






.jpg)

