চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় খেলার ছলে দেশলাইয়ের বারুদ দিয়ে পটকা তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে তিন শিশু দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে এক শিশুর বাম হাতের পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রোববার (৮ মার্চ) সকালে উপজেলার ভাংবাড়িয়া গ্রামের মিলপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন মসজিদের ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো ভাংবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. রনক (১৩), উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মো. হোসাইন (১১) এবং আমদ আলীর ছেলে একই শ্রেণির ছাত্র লাল মিয়া (১১)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৌতূহলবশত শিশু তিনজন দেশলাইয়ের কাঠি থেকে বারুদ সংগ্রহ করে তা দিয়ে পটকা তৈরির চেষ্টা করছিল। এ সময় প্রস্তুতের একপর্যায়ে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজনই দগ্ধ হয় এবং রনকের বাম হাতের পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত রনককে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) এ পাঠানো হয়েছে। অপর দুই শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ভাংবাড়িয়া মিলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, খেলতে খেলতে শিশুরা দেশলাইয়ের বারুদ দিয়ে বাজি তৈরির চেষ্টা করছিল। এ সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে তারা গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, সম্ভবত ইউটিউব বা অন্য কোনো মাধ্যমে দেখে শিশুরা এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার চেষ্টা করেছে। সামান্য দেশলাইয়ের বারুদও যে বিপজ্জনক হতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও সতর্ক নজরদারি রাখার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:








