চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ও মাইক্রো মার্চেন্টের যোগসাজশে অসহায় দরিদ্রদের ভাতার টাকা আত্মসাৎ এবং প্রমাণ নষ্ট করতে ব্যাংকের বইয়ের পাতা খুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মোসাঃ রংফুল বেগম একজন অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী। অভিযোগ অনুযায়ী, তার ভাতার বইয়ে (অ্যাকাউন্ট নং: ১০৮৩৪৭০২৮৯১১৪) ৫ হাজার ৩৫০ টাকা জমা থাকলেও ব্যাংক এশিয়ার মোবারকপুর এজেন্ট শাখার সিএসও আব্দুর রাকিব ও মাইক্রো মার্চেন্ট আসমাউল হোসাইন তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে মাত্র ২ হাজার ৭০০ টাকা প্রদান করেন। অবশিষ্ট টাকা তারা কৌশলে আত্মসাৎ করেন।
টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত আব্দুর রাকিব ও আসমাউল ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। তারা বাকি ২ হাজার ৫৫০ টাকা ফেরত দিলেও জালিয়াতির প্রমাণ মুছে ফেলতে ভাতার বইয়ের ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর পাতাগুলো খুলে নিয়ে আসেন। এ সময় তারা অসহায় ওই নারীকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, শুধু রংফুল নন, মোবারকপুর ইউনিয়নে এমন বহু ভুক্তভোগী রয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ আব্দুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তিনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট আপডেটের কথা বলে বই নিজের কাছে রেখে দেন এবং পরে বই ফেরত দিতে 'মিষ্টি খাওয়ার' নাম করে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন। তার বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাকিব সহ অনেক ভূক্তভোগী জানিয়েছেন।
এবিষয়ে আব্দুল কাইয়ুমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি কারো থেকে কোন ধরণের টাকা নিই নি। আমি এগুলোর সাথে জড়িত নই।’
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিকার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী রংফুল বেগম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং ব্যাংক এশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তার সামনে অভিযুক্ত আব্দুর রাকিব ও আসমাউল হোসাইন দ্বায় স্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, ‘বইয়ের পাতা ছেঁড়া গুরুতর অপরাধ। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে ব্যাংক এশিয়ার শিবগঞ্জ উপজেলার এ.আর.ও মাসুদ রানা বলেন, ‘তাদের অপরাধের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট জানানো হয়েছে। খুব দ্রুত সেই এজেন্টের কার্যক্রম বন্ধ সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অসহায় মানুষের হকের টাকা আত্মসাতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন:








