মঙ্গলবার

২৪ মার্চ, ২০২৬ ১০ চৈত্র, ১৪৩২

রাজধানীর বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি, খোলা তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ৪-৭ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ মার্চ, ২০২৬ ১১:১৯

শেয়ার

রাজধানীর বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি, খোলা তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ৪-৭ টাকা
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ কমে যাওয়া এবং চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবে বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কম। কোথাও কোথাও তা পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে পাঁচ লিটারের বোতলের সরবরাহ বেশি কমেছে। বাজারে এই প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৯৫৫ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলার পর্যায়ে বোতলজাত তেলের দাম বেড়েছে। আগে যেখানে পাঁচ লিটারের বোতল ডিলার থেকে ৯২০ টাকায় কেনা যেত, বর্তমানে তা ৯৪০ থেকে ৯৫০ টাকায় কেনা হচ্ছে। এতে খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহ পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ভোক্তা পর্যায়ে দামের চাপ বাড়তে পারে বলে তারা জানান।

কারওয়ান বাজারের এক ডিলার জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ তেল পাওয়া যায়, বর্তমানে তার তুলনায় কম সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানি পর্যায় থেকে কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানানো হয়েছে।

আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিবহন সংকটের কারণে তেল সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। সংশ্লিষ্ট এক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জানান, পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে তেল পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

তবে আরেকটি বড় বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তাদের কারখানায় পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে এবং নিয়মিত বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিছু ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কেনায় সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বোতলজাত তেলের ঘাটতির কারণে খোলা সয়াবিন তেলের বাজারেও চাপ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭৬ থেকে ১৭৮ টাকা। অর্থাৎ লিটারে দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৭ টাকা। সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার পাম অয়েলের দাম ১৬৬ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা ১৭০ টাকা বা তার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানান, বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় খোলা তেলের বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তার মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব থাকলেও ভোক্তা পর্যায়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে কার্যকর তদারকি জরুরি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, বাজারে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চলছে। রোববার বিশেষ টিম পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



banner close
banner close