শনিবার

৭ মার্চ, ২০২৬ ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

ভোলায় ৪ ট্রাকে চোরাই টিএসপি সার জব্দ, সন্দেহের তীর বিসিআইসি কর্মকর্তার দিকে

ভোলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৮

আপডেট: ৬ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৩২

শেয়ার

ভোলায় ৪ ট্রাকে চোরাই টিএসপি সার জব্দ, সন্দেহের তীর বিসিআইসি কর্মকর্তার দিকে
ছবি বাংলা এডিশন

ভোলায় পাচারের সময় চারটি ট্রাক থেকে ১ হাজার ৪২০ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ইলিশা-লক্ষ্মীপুর ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রাকচালকেরা পালিয়ে গেলেও একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে বিসিআইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইলিশা ফাঁড়ি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফেরি কুসুমকলি থেকে তিনটি ট্রাক এবং অপর একটি ফেরি থেকে আরও একটি ট্রাক আটক করে। এসব ট্রাকে মোট ১ হাজার ৪২০ বস্তা টিএসপি সার ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সারগুলো ভোলা বাফার গুদাম থেকে পাচার করে লক্ষ্মীপুর হয়ে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছিল।

অভিযানের সময় ট্রাকচালকেরা পালিয়ে গেলেও একজন চালককে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা সার ও ট্রাকের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভোলা একটি কৃষিপ্রধান জেলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তার যোগসাজশে জেলায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাবুদ্দিন বলেন, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার বিসিআইসি গুদাম ভোলায় হওয়ায় এখান থেকে সার বিতরণ করা হয়। এই সুযোগে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী অবৈধভাবে সার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

বর্তমানে জেলায় তরমুজ মৌসুম চলায় সারের চাহিদা বেশি। এ সময় সারের সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেন তরমুজচাষীরা। তাদের দাবি, প্রতিটি বস্তা টিএসপি সার তারা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ এখন পাচারের ঘটনা সামনে আসায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে ভোলা বাফার গুদামের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ বলেন, সারগুলো বরগুনা জেলার ডিলারদের কাছে পাঠানোর জন্য ট্রাকে তোলা হয়েছিল। তার দাবি, ট্রাকচালকেরা ভুলবশত বেদুরিয়া ফেরিঘাটে না গিয়ে ইলিশা হয়ে লক্ষ্মীপুরগামী ফেরিতে উঠে পড়েছেন। তিনি বলেন, তার দায়িত্ব গুদামের গেট পর্যন্ত এবং সেখান থেকে সার বৈধভাবে বের হয়েছে। তার কাছে গেটপাস রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে একটি ট্রাকের গেটপাস দেখানো হলেও বাকি তিনটির গেটপাস পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

ইলিশা ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক মো. বশির উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারটি ট্রাকসহ সার জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



banner close
banner close