মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাত দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
শুক্রবার রাজধানীর নিউমার্কেট কাঁচাবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রয়লার মুরগির দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
বাজারে ব্রয়লারের পাশাপাশি অন্যান্য জাতের মুরগির দামও তুলনামূলক বেশি। কক মুরগি কেজিপ্রতি প্রায় ৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি প্রায় ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেট এলাকার মুরগি বিক্রেতা মো. আলমগীর জানান, গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
একই বাজারের বিক্রেতা সোহেল মিয়া জানান, রমজান সামনে রেখে অনেক খামারি আগেই মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে বর্তমানে বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক কম রয়েছে। বিক্রেতা আবদুল কাদের জানান, বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে আনা মুরগি দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ বেড়েছে। ক্রেতা নাসরিন আক্তার জানান, মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়ভার সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে মাছের বাজারেও দামের তারতম্য দেখা গেছে। বাজারভেদে চাষের পাঙাশ মাছ কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং রুই ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের নদীর মাছের দাম আরও বেশি। বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছের কেজিপ্রতি দাম ৪০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
সবজির বাজারেও কিছু পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি। মান ও আকারভেদে বেগুন কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।
আরও পড়ুন:








