শুক্রবার

৬ মার্চ, ২০২৬ ২১ ফাল্গুন, ১৪৩২

গণধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়ায় গবিসাস কার্যালয়ে গকসুর ‘মব’ কার্যালয় বন্ধের হুমকি

গবি প্রতিনিধি :

প্রকাশিত: ৫ মার্চ, ২০২৬ ২২:৪২

আপডেট: ৫ মার্চ, ২০২৬ ২২:৪৩

শেয়ার

গণধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়ায় গবিসাস কার্যালয়ে গকসুর ‘মব’ কার্যালয় বন্ধের হুমকি
ছবি সংগৃহীত

গণধর্ষণের অভিযোগ তোলা ছাত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়ায় সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (গবিসাস) কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার এবং সাংবাদিকদের কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) নেতাদের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের অংশ হিসেবে গবিসাস বন্ধ করা হলো বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, এই ধরণের কার্যক্রমের এখতিয়ার রাখে না গকসু।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণধর্ষণের অভিযোগ তোলা এক ছাত্রী ভিপির হয়রানির শিকার হয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে এলে তাকে তুলে নিয়ে হেনস্তার চেষ্টা করে গকসু ভিপির স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক ছাত্রীসহ কয়েকজন। সেদিন কার্যালয়েও ভাংচুর করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ভিপির নেতৃত্বে এবার গবিসাস কার্যালয়ে এসে বন্ধের হুমকি দেয় গকসুর নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনের নিচতলায় গবিসাস কার্যালয়ে এসে গকসুর ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান, জিএস রায়হান খানসহ গকসুর নেতৃবৃন্দ এসে এই নির্দেশ দেন। তবে এই বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশ দিতে রাজি হননি তারা। এমনকি এই বিষয়ে ভিডিও বক্তব্যও দিতে রাজি হননি নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, গকসু প্রশাসনের অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দিয়েছে। আর এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবুল হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও গবিসাসের সদস্যরা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে গকসু ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান, জিএস রায়হান খান, এজিএস সামিউল হাসানসহ গকসুর প্রায় ১৭-১৮ জন প্রতিনিধি ও ৮-১০ জন শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২৫-৩০ জন গবিসাস কার্যালয়ে আসেন। সে সময় গবিসাস সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ চারজন কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। গকসু জিএস রায়হান খান কার্যালয়ে ঢুকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে বলেন, ভর্তি কমে যাওয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নেতিবাচক প্রচারণা করে গবিসাস। এসব কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ম্যান্ডেটে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি আজ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এ সময় টেবিল চাপড়েও কথা বলতে থাকেন তিনি।

তারা আরও জানান, এরপর পাঁচ মিনিটের মধ্যে গবিসাস সদস্যদের অফিস ত্যাগ করতে আল্টিমেটাম দেন তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে আসা এক শিক্ষার্থী গবিসাসের একটি বৈদ্যুতিক বাতি ভাংচুর করে। এ ছাড়া সেখানে থাকা আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের গবিসাস সদস্যদের দিকে বই ছুঁড়ে মারেন। একপর্যায়ে গবিসাস নেতৃত্ব তাদের জিজ্ঞেস করেন, এভাবে বন্ধ করতে পারেন কি না। জবাবে গকসু নেতৃত্ববৃন্দ বলেন, গকসু প্রশাসনের একটি অংশ, এটি করতে পারেন তারা। এ সময় মৌখিক নয়, লিখিত দেন বললে, তারা লিখিত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় কয়েক দফায় গকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শীতল ও দপ্তর সম্পাদক শারমিন আক্তারসহ বেশ কয়েকজন গবিসাস সাধারণ সম্পাদককে শারীরিকভাবে আক্রমণ করতে চেষ্টা করেন। এরপর গবিসাস সদস্যরা, এই বিষয়ে গকসুর সভাপতি ও উপাচার্যের সঙ্গেসহ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ভিপি নিজেই ভিসিকে ফোন করেন। ভিসি জানান, আজকের মতো সবাইকে চলে যেতে। পরবর্তী দিন তিনি বিষয়টি দেখবেন। এরপর প্রক্টরকে ফোন করলে তিনি এসে, রবিবার বিষয়টি নিয়ে বসা হবে বলে জানান। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে গবিসাস কার্যালয় ত্যাগ করেন গকসুর প্রতিনিধিরা।

অপকর্মে ভিপির নাম, হুমকিতে গবিসাস

সম্প্রতি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের মধ্যে একজন গকসুর ভিপি মৃদুল দেওয়ানের চাচাতো ভাই অন্তু দেওয়ান।

গেল সপ্তাহে ধর্ষণের শিকার সেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আশুলিয়া থানা, গবি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন, ভিপি মৃদুল দেওয়ান ও তার লোকজন তাকে নিয়মিত হয়রানি করছেন।

এ ঘটনায় গত সোমবার গবিসাসে সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তৎক্ষণাৎ ভিপি মৃদুল দেওয়ানের স্ত্রী পরিচয় দেওয়া এক নারীসহ কয়েকজন গবিসাস কার্যালয়ে এসে সেই ভুক্তভোগীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেদিন গবিসাস কার্যালয়েও ভাংচুর করা হয়। তবে পরদিন এসে দুঃখপ্রকাশ করেন গকসু ভিপি। বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমেও উঠে আসে।

সেদিন থেকেই গুঞ্জন ছিল গবিসাস কার্যালয়ে পুনরায় হামলার। আজ (৫ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার পর গকসুর নেতৃবৃন্দ গবিসাসে এসে কার্যালয় বন্ধ করে দেন। সে সময়ে তারা দাবি করেন, শিক্ষার্থী…



banner close
banner close