বৃহস্পতিবার

৫ মার্চ, ২০২৬ ২১ ফাল্গুন, ১৪৩২

নওগাঁয় পুলিশের লাথির আঘাতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:৩৮

শেয়ার

নওগাঁয় পুলিশের লাথির আঘাতে আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথির আঘাতে এক আসামির বৃদ্ধ বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বৃদ্ধের নাম আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬)। তিনি মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আসামি এমরান হোসেনের বাবা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার মধ্যরাতে মহাদেবপুর থানার এস আই আসাদুজ্জামান, এএসআই আছির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে আটক করতে মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যায়। কিন্তু ইমরান হোসেনকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এবং পুলিশ আসামির বাড়ির দরজা ভাঙচুর করে বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ। এসময় আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া (৮৫) তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।

আব্দুল হামিদের নাতি রিপন (১২) জানায়, তারা দাদা-নাতি এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন, মধ্যরাতে ৫ জন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তার দাদাকে লাথি মারলে পুলিশের লাথিতে তার দাদা মাটিতে পড়ে যায়। সেখান থেকে ওঠার চেষ্টা করে আবারও পরে যায় এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহত আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া জানান, তার ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আব্দুল হামিদ অত্যন্ত সহজ সরল মানুষ ছিলেন, তার নামে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই। ছেলে ইমরান হোসেনকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে এমন অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাকে লাথি মারলে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ অন্য আরেকজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এসলামকে গ্রেফতার না করে তাকে ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম ও সিরাতুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তারা পুলিশের সাথে ছিলেন না।

মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) শহিদুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে অভিযানে গিয়েছিল। অভিযানে একজন আসামিকে আটকও করা হয়। অন্য একটি বাড়িতে অভিযানকালে কাউকে না পেয়ে গৃহকর্তার কাছে পাশের একটি বাড়ি চিনে নেওয়ার জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়। সেখান থেকে ফেরার পথে স্থানীয়দের কাছে শোনা যায়, যে ব্যক্তি সহযোগিতা করতে বাইরে এসেছিলেন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (স্ট্রোক) মারা গেছেন। পুলিশের আঘাতে মৃত্যুর বিষয়টি সঠিক নয়।’

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, আব্দুল হামিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারপরও পুলিশের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।



banner close
banner close