বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর বাঁশখালী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ১১ দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার চেচুরিয়া এলাকায় অবস্থিত সেভেন স্টার কনভেনশন হলে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি। তিনি তাঁর বক্তব্যে পবিত্র রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও পারস্পরিক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, 'রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাসের শিক্ষা আমাদের ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতার পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।'
মুসলিম বিশ্বের চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, 'বাঁশখালীর সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে আমি এ জনপদকে এগিয়ে নিতে চাই। যারা আমাকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা যেমন আমার আপন, তেমনি সকল নাগরিকই আমার প্রিয়জন। বৃহত্তর বাঁশখালীর উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।' তিনি জানান, খাল খননের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে এবং একটি পরিকল্পিত ও সুন্দর বাঁশখালী গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাঈল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, মতভেদ থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলা জরুরি। তিনি বলেন, 'সরকার যদি সঠিক ও ন্যায়ের পথে অগ্রসর হয়, তাহলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতায় থাকবে। তবে ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটলে জনগণ আবারও প্রতিবাদে সোচ্চার হবে। তিনি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।'
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আরিফ উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ বদরুল হক, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু নাছের, শূরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল মোস্তফা, চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিম ছাত্রশিবির সভাপতি পরমানুর রহমান জাহিন, নেজামে ইসলাম পার্টির উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক ক্বারী ফজলুল করিম জিহাদী, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহিম ছানবী, প্রবীণ আইনজীবী আলহাজ নুরুল আবছার, সিনিয়র আইনজীবী মুজিবুল হক চৌধুরী, পৌরসভা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু তাহের, উপজেলা নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমীর মাওলানা শহিদ উল্লাহ এবং খেলাফত মজলিশের উপজেলা দায়িত্বশীল মাওলানা সাদুর রশিদ।
এছাড়াও মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা জাকের আহমদ, মাওলানা শহিদুল ইসলাম, মাওলানা মুজিবুর রহমান, সৈয়দ মরতুজা আলী, ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী বাবু, খোরশেদ আলী চৌধুরী, মাওলানা সোলাইমান, মাওলানা এনামুল হক জিহাদী, অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসাইন, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন সিকদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা এবং সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইফতার মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরে আগত অতিথিদের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
আরও পড়ুন:



.jpg)




