বুধবার

৪ মার্চ, ২০২৬ ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২

একদিকে ভিসির সংবাদ সম্মেলন, অপরদিকে ভিসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহীর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪ মার্চ, ২০২৬ ২১:৩১

শেয়ার

একদিকে ভিসির সংবাদ সম্মেলন, অপরদিকে ভিসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: বাংলা এডিশন

বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রকল্পের ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক। বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই লিখিত বক্তব্য পাঠ করে অভিযোগের জবাব দেন।

লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জড়িয়ে ‘প্রকল্পের ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ’ সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্রের চরিত্রহননের অপচেষ্টা। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, অভিযোগের কোনো সত্যতা বা নৈতিক ভিত্তি নেই। তিনি জানান, প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘জেনিথ কর্পোরেশন’ ও ‘তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই দুটি প্রতিষ্ঠান অদ্যাবধি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণই করেনি। যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়নি, সেখানে তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোঃ জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটায় নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ ও সচেতন রাজশাহীবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। তারা দাবি করেন, রাজশাহী নগরের সিলিন্দা এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে ৯ শতাংশ চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে পরিচালক ও হিসাবরক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত উপাচার্যের অপসারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। মানববন্ধন থেকে বর্তমান সরকারের কাছে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে রামেবি উপাচার্য জাওয়াদুল হক বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করতে না পারার ক্ষোভ থেকেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার অভিযোগ, ‘জেনিথ কর্পোরেশন’-এর মালিক আতাউর রহমান টিপু দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার ডাটা শিট (টিডিএস) তার শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর)-এর পরিপন্থী। বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স’ প্রাক্কলিত মূল্যের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ রাখার বিধান থাকলেও তা ৫০ শতাংশের নিচে নামানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, নিয়মবহির্ভূত দাবি প্রত্যাখ্যান করায় গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, কল ও ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে তাকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন উপাচার্য। এসবের ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া ‘এম জামাল কোং’ নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠান একই উদ্দেশ্যে স্পেসিফিকেশন এক্সপেরিয়েন্স কমানোর দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কারিগরি ব্যাখ্যা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু রাখার নির্দেশনা দেয় বলে জানান উপাচার্য।

তিনি বলেন, প্রতিটি স্তরে ব্যর্থ হয়ে একটি মহল এখন সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে তাকে পদচ্যুত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে উপাচার্যের পদে বসিয়ে নিজেদের ঠিকাদারকে অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কোনো হুমকি বা অপপ্রচারে প্রশাসন নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না। তিনি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



banner close
banner close