রবিবার

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১ চৈত্র, ১৪৩২

নাব্যতা সংকটে সংকুচিত বলেশ্বর নদী, দখল ও খনন বন্ধে বেড়েছে ঝুঁকি

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৯

শেয়ার

নাব্যতা সংকটে সংকুচিত বলেশ্বর নদী, দখল ও খনন বন্ধে বেড়েছে ঝুঁকি
ছবি: বাংলা এডিশন

বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় দখল, ভরাট ও দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় বলেশ্বর নদী নাব্যতা হারিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, একসময় প্রায় অর্ধকিলোমিটার প্রশস্ত নদীটি বর্তমানে কোথাও কোথাও মাত্র চল্লিশ হাতে নেমে এসেছে, ফলে নদীপথে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।

বাগেরহাট জেলার সীমান্তবর্তী অংশে দীর্ঘদিন কোনো খনন কার্যক্রম না হওয়ায় নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা ভরাট হয়ে খালের আকার ধারণ করেছে। চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের অশোক নগর, দক্ষিণ চর বানিয়ারী, বাওয়ালী কান্দি গ্রাম এবং নাজিরপুর উপজেলার বানোয়ারী এলাকার দুই পাড়ে জেগে ওঠা চরে কৃষিজমি, মৎস্য ঘের ও বসতবাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র নিয়মিতভাবে চর দখল করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে।

নদীর তলদেশে পলি জমে এবং বালুচর জেগে ওঠায় শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ আরও কমে যাচ্ছে। বর্ষাকালে পানি দ্রুত নেমে যেতে না পারায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। একসময় এই নদীপথে লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করলেও বর্তমানে তা প্রায় বন্ধ। নদীর বিভিন্ন স্থানে শ্যাওলা ও কচুরিপানা জমে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যানুসারে, বহু বছর ধরে নদীতে কোনো খনন কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। তাঁদের মতে, নদী খনন ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হলে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, অতীতে এই নদীতে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত, তবে নাব্যতা সংকট ও দখলের কারণে বর্তমানে মাছের উৎপাদন কমে গেছে। কৃষিজমিতে সেচের পানির ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।

নদীর চরে দখল সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন চর জেগে উঠলেই সেখানে সীমানা নির্ধারণ করে দখল নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের পক্ষে এ ধরনের দখল কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বলেশ্বর নদী খননের জন্য বর্তমানে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প নেই। তবে নদী দখলের অভিযোগগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রকল্পের আওতায় নদী খনন ও দখল উচ্ছেদের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত দখল উচ্ছেদ ও নিয়মিত খনন কার্যক্রম শুরু না হলে নদীর নাব্যতা আরও কমে গিয়ে এর পরিবেশ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।



banner close
banner close