নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি গোডাউনঘর ও দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। এতে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলা শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক রোড এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, রোডের পাশে অবস্থিত একটি তুলার গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভবনে অবস্থিত ঢাকা ব্যাংক এর কার্যালয়ে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ভবনের ওপরের তলায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে অবস্থিত ডিএমসিবি ব্যাংক এর আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামালও পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট আটটি ইউনিট দুই ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মোকছেদুর রহমান জানান, “দুপুরের দিকে হঠাৎ ধোঁয়া উঠতে দেখি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।”
আরেক ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, “সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ভবনে আগুন নির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।”
এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, “তুলার গোডাউন থেকে আগুন ছড়িয়ে পাশের ভবনে পৌঁছায়। সেখানে থাকা দুটি ব্যাংকের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। আটটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় সময় বেশি লেগেছে। কয়েকজন ভিতরে আটকা পড়লেও তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আগুনের কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা যাবে।”
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা বলেন, “ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:








