জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে নিজ বাড়ি থেকে আরিফা আকতার (১৯) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে আক্কেলপুর থানা পুলিশ। রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার আওয়ালগাড়ী গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
এঘটনায় নিহতের স্বামীসহ তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়েছে। নিহত গৃহবধূর বাবার দাবি- স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছে। হত্যার পর আত্নহত্যার নাটক সাজিয়ে সবাই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে।
নিহত গৃহবধূ আরিফা আকতার উপজেলার আওয়ালগাড়ী মাঠপাড়া গ্রামের সুমন হোসেন স্ত্রী। সুমন হোসেন পেশায় একজন গ্রীল মিস্ত্রী। তাঁদের রাইসা জান্নাত নামে দুই বছরের এক মেয়ে রয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন বছর আগে সুমন হোসেনের সঙ্গে আরিফার বিয়ে হয়। এটি আরিফার দ্বিতীয় বিয়ে। আরিফা-সুমন দম্পতির দুই বছরের মেয়ে রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। আজ রোববার দুপুরে পারিবারিক কলহের জেরে আরিফা আকতারকে তাঁর স্বামী মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আরিফা আকতার মারা গেছেন বলে তাঁর বাবা ও ভাইদের জানান প্রতিবেশীরা। স্বজনেরা এসে বাড়ির টিউবওয়েল পাড়ে আরিফার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরা নিহত আরিফার দুই বছরের কন্যা, স্বামীসহ বাড়িতে কাউকে পাননি। ঘটনার পর বাড়ির সবাই কৌশলে পালিয়েছেন বলে প্রতিবেশীরা আরিফার বাবা ও ভাইদের জানান। পরে বিকেল পুলিশ গিয়ে আরিফার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে।
নিহত আরিফার বাবা আবুল হোসেন বলেন, আজ রোববার সকাল এগারোটার দিকে ফোন করে আমাদের কাছে পাঁচশ টাকা ধার চেয়েছিল। আমরা লোকজনের মাধ্যমে বিকেলে আরিফা মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা দ্রুত এসে দেখি আমার মেয়ে বাড়ির টিউবওয়েল পাড়ে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। আমার মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে প্রচার করে বাড়ির সবাই পালিয়েছে।
আরিফার স্বামী সুমন হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমার স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছেন। আমরা কেউ তাঁকে হত্যা করিনি। ঘটনার পর এমনিতেই বাড়ির বাইরে আছেন।
সুরতহাল প্রস্তুতকারী থানার এসআই সাদমান হোসেন বলেন, নিহতের গলায় ফাঁসের ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় । লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আপাতত একটি ইউডি মামলা নেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। যদি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যা ঘটনা আসে তখন হত্যা মামলা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:







.jpg)
