চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাফিজুর রহমান নামের এক জামায়ত কর্মী নিহত হয়েছে। তিনি হাসাদহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মফিজুর রহমানের বড় ভাই। সংঘর্ষে আহত মফিজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান দলীয় সুত্র। তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেয়া হয়। পরে আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুত্ব হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে রেফার করা হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে মধ্যরাতে মফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। বাকিরা বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় আজ রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় জামাতের পক্ষ থেকে জীবননগর শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, হাসাদহ এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে শনিবার ইফতারের পর জামায়াত ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে আকস্মিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে । একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন একই উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মৃত ওহাবের ছেলে জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান, তার ভাই ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর রহমান এবং একই গ্রামের মৃত গোপাল মণ্ডলের ছেলে খায়রুল ইসলাম সহ মোট চারজন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে হাফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
বিএনপির হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কেরামত আলীর ছেলে মেহেদী হাসানসহ আরো একজন আহত হয়।
পুলিশ জানায়, জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই দলের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর ও জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখের নেতৃত্বে থানা-পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








