টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চললেও এর তেমন কোন সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ বাজারেই আগের মতোই চড়া দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রমজানকে সামনে রেখে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মূল্যতালিকা না রাখা, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি এবং ভেজাল পণ্যের দায়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে। তবে অভিযানের পরপরই বাজারে আগের চিত্র ফিরে আসে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
বাজারে আসা ভোক্তারা জানান, প্রশাসনের অভিযানের সময় কিছুটা স্বস্তি মিললেও তা বেশি সময় স্থায়ী হয় না। প্রশাসনের টিম চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চাল, ডাল, তেল, চিনি, সবজি ও মাছ-মাংসসহ প্রায় সব পণ্যের দাম আবার বেড়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার গোবিন্দাসী হাটে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। অভিযানের সময় লেবু বিক্রি করা হয় ১২০ টাকা কেজি দরে। কিন্তু প্রশাসন চলে যাওয়ার পরপরই সেই লেবু ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের টিম আসার আগেই ব্যবসায়ীরা খবর পেয়ে সাময়িকভাবে দাম কমালেও পরে আবার আগের দামে ফিরে যায়।
ক্রেতারা জানান, বাজার মনিটরিংয়ের খবর ও জরিমানার কথাও শোনা যায়। কিন্তু বাজারে এসে তার কোনো প্রভাব দেখি না। যে দামে কিনতাম, এখনও সেই বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। বাজার মনিটরিং তেমন কোন কাজেই আসছে না আমাদের।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবহন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির কারণেও দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বলেন, আমাদের টিম প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করছে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কেউ অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে কি না তা দেখা হচ্ছে ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যারা বাজার মনিটরিং টিমের উপস্থিতিতে সঠিক দাম নিয়ে পরে আবার বাড়িয়ে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে টিম যাওয়ার খবর আগে থেকে কেউ দিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান ও কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে। তবেই মিলবে প্রকৃত স্বস্তি।
আরও পড়ুন:








